Latest News

বাবা তালিবান বিরোধী, তাই নাবালক সন্তানকে খুন পঞ্জশিরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ১৫ অগাস্ট কাবুল দখল করার পরে তালিবান বলেছিল, কারও ওপরে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হবে না। কিন্তু পঞ্জশির (Panjshir) অবজারভার নামে এক সংবাদপত্র জানাচ্ছে, তাখার অঞ্চলে একটি শিশুকে খুন করেছে তালিবান। তারা সন্দেহ করেছিল, শিশুটির বাবা তালিবান বিরোধী রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের সদস্য।

তালিবান কাবুল দখলের পরেও তাদের বিরোধীরা সক্রিয় ছিল পঞ্জশিরে। বেশ কিছুদিন ধরে তারা সেখানে তালিবানকে ঠেকিয়ে রেখেছিল। তালিবান পঞ্জশির দখলের পরে সেখান থেকে অনেকে পালাতে চেষ্টা করেন। তাঁদের অনেককে গুলি করে মারে তালিবান। পঞ্জশিরের এক তরুণ জানিয়েছেন, তালিবান পাঁচবার তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, তালিবান রাস্তায় মানুষকে থামিয়ে জানতে চাইছে, তাঁর সঙ্গে রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের যোগাযোগ আছে কিনা। তারা সকলের মোবাইল খুঁটিয়ে দেখছে। কারও মোবাইলে সন্দেহজনক কোনও ছবি দেখলেই তাঁকে গুলি করে মারছে।

সোমবার জানা যায়, তালিবান চিঠি দিয়ে হেলমন্দ প্রদেশের হেয়ারড্রেসারদের জানিয়ে দিয়েছে, কারও দাড়ি কাটা যাবে না, ছাঁটা যাবে না। সব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্টাইল করে চুল কাটাও নিষিদ্ধ করেছে তালিবান। দি ফ্রন্টিয়ার পোস্ট এক প্রতিবেদনে এখবর দিয়েছে। তাতে জানা গিয়েছে, তালিবানের ইসলামি আদর্শ, দিশা রূপায়ণ মন্ত্রকের কর্তারা হেলমন্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গাহ-তে সম্প্রতি  ছেলেদের সেলুনের ক্ষৌরকর্মী, হেয়ারড্রেসারদের এক বৈঠকে ডেকে এহেন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জানিয়ে  দেয়। সোস্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কেও নিষেধাজ্ঞার কথা ফলাও করে ছাপা হয়েছে। তাতে আরও বলা হয়েছে,  সেলুনের  ভিতরে গান বাজানো চলবে না, প্রার্থনাসঙ্গীতও নয়।

ন্যাটোবাহিনী ও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তালিবান আফগানিস্তান ফের দখল করেছে এক মাসের ওপর হয়ে গেল । একে একে তারা যেসব পদক্ষেপ করছে, সেগুলি তাদের ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের শাসনের স্মৃতিই ফিরিয়ে আনছে। তারা নতুন নতুন ফতোয়া চাপিয়ে বলেছিল, ইসলামি আইন, শরিয়তের শাসনে দেশ চলবে।

এর মধ্যে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ভাষণ দেওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছিল তালিবান। কিন্তু তারা যে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে, তার দূতেরই ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল সোমবার। তিনি জানিয়েছেন ভাষণ দেবেন না। তাঁর বদলে তালিবানের কোনও প্রতিনিধিকেও বক্তব্য পেশ করার অনুমতি দিল না রাষ্ট্রপুঞ্জ।

আফগানিস্তানের ভুতপূর্ব সরকারের পক্ষ থেকে যিনি রাষ্ট্রপুঞ্জে প্রতিনিধি ছিলেন, তাঁর নাম গুলাম ইশাকজাই। তিনি আগে জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জে ভাষণ দিতে চান। পাশাপাশি তালিবানও দাবি করেছিল, তার দূত ওই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য পেশ করবেন। রাষ্ট্রপুঞ্জে কাকে ভাষণ দিতে দেওয়া হবে, তা স্থির করে নয় সদস্যের এক কমিটি। তার সদস্যদের মধ্যে আছেন আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের প্রতিনিধি। আগামী অক্টোবরে কমিটির বৈঠক হবে। তার আগে পর্যন্ত ইশাকজাই রাষ্ট্রপুঞ্জে আফগানিস্তানের দূত হিসাবে থাকবেন।

You might also like