Latest News

‘ম্যারিটাল রেপ’ নিয়ে হাইকোর্টের রায়ে হতাশ তাপসী-সোনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী গায়ের জোরে যৌন সংসর্গ করলেও তা নাকি ধর্ষণ নয়। সম্প্রতি একটি মামলায় এমনই রায় দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ছত্তীসগড় হাইকোর্ট। বিচারপতির যুক্তি, স্ত্রীর বয়স ১৫-র ওপর হলে ভারতীয় আইনে দাম্পত্য ধর্ষণের স্বীকৃতিই নেই।

এই রায়ের বিরুদ্ধে এবার সরব হলেন অভিনেত্রী তাপসী পান্নু, গায়িকা সোনা মহাপাত্র। তাঁরা ম্যারিটাল রেপ নিয়ে এ হেন রায়ে রীতিমতো বিস্মিত ও স্তম্ভিত। তাপসী এই সংক্রান্ত খবরটি রিটুইট করে লেখেন, “এটাই শোনা বাকি ছিল।” এ নিয়ে সোনা টুইট করেন, “এটা পড়ে যে কতটা অসুস্থ লাগছে, বলে বোঝাতে পারব না।”

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ছত্তীসগড়ের এই মামলায় অভিযোগকারিণী মহিলা দাবি করেছিলেন, বিয়ের পর থেকে পণের জন্য তাঁর ওপর অত্যাচার হত। নিষ্ঠুরতা, যৌনতার শিকার  হতেন তিনি। স্বামী তাঁর সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার  করতেন, তিনি প্রতিবাদ  করলে, বাধা দিলেও তাঁর যৌনাঙ্গে আঙুল বা অন্য বস্তু ঢুকিয়ে দিতেন। তাঁর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করেন মহিলার বাবা-মা, ‘পড়শি প্রত্যক্ষদর্শীরাও’।

স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে তিনি ফৌজদারি সংশোধনীর আর্জি জানান। হাইকোর্ট তার শুনানিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারায় (ধর্ষণের জন্য শাস্তি) গঠিত চার্জ ‘ভ্রান্ত, অবৈধ’ বলে জানায়, তবে ৩৭৭ (অস্বাভাবিক যৌনতা) ও ৪৯৮ এ (মহিলার প্রতি নিষ্ঠুরতা) ধারায় গঠিত চার্জ বহাল রাখে।

বিচারপতি এন কে চন্দ্রবংশী ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার আওতায় উল্লিখিত ব্যতিক্রমের ওপর ভিত্তি করে রায় দেন। তাতে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়েন, সেক্ষেত্রে স্ত্রীর বয়স ১৫-র কম না হলে তা ধর্ষণ নয়। এই মামলায় অভিযোগকারিনী প্রথম আবেদনকারীর বৈধ বিবাহিত স্ত্রী। তাই স্বামী যদি জোর করেও তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌন সংসর্গ করেন, সেটা ধর্ষণ বলা যাবে না।

বিচারপতির কথায়,” আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮-এ/৩৪ অনুচ্ছেদে চার্জ গঠনে কোনও খামতি দেখছি না। তবে ৩৭৬ ধারায় (ধর্ষণের জন্য শাস্তি) গঠিত চার্জ ভুল।”  এই নিয়েই সরব হয়েছেন সকলে। বিয়ের পরেও ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌনতা করা যায় না, জোর খাটালে তা ধর্ষণেরই সমান, এমনটাই মত বড় অংশের নাগরিকের।

এবছরেরই মার্চ মাসে তাপসী ও সোনা আরও একবার সরব হয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে, এমনই এক ধর্ষণ মামলার রায় শুনে। সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলায় অভিযুক্ত ধর্ষককে প্রশ্ন করেছিল, সে ধর্ষিতা মেয়েটিকে বিয়ে করতে চায় কিনা। তাপসী সে সময় লিখেছিলেন, মেয়েটি আদৌ ধর্ষককে বিয়ে করতে চায় কি! এই প্রশ্ন কেউ তাকে করেছে! এটা কি কোনও শাস্তি বা সমাধান হতে পারে!

You might also like