Latest News

প্রধানমন্ত্রীকে শুভেন্দু: গাছ লাগানোর নামে বাংলায় একশ দিনের টাকা লুঠ হচ্ছে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) একটি চিঠি দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রের কাছে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া পাওনা রয়েছে রাজ্যের। এত বিপুল পরিমাণ টাকা আটকে থাকলে রাজ্য চালাব কী করে?

তার পর চব্বিশ ঘণ্টাও কাটল না প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari Wrote Letter to Narendra Modi)। তাঁর পাল্টা বক্তব্য, বাংলায় দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রের অনুদানে চলা প্রকল্পের টাকা ঘুর পথে লুঠ হচ্ছে। আর একশ দিনের প্রকল্প (MGNREGA) তো টাকা লুঠের খনিতে পরিণত হয়ে গিয়েছে।

শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) অভিযোগ, আগে একশ দিনের প্রকল্প খাতে ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করে টাকা লুঠ হত। খাতায় কলমে দেখানো হত লক্ষ লক্ষ ম্যান ডেইজ তথা কর্মদিবস তৈরি করা হয়েছে। আদতে সেই টাকা লুঠ করত তৃণমূল (TMC)। এখন সে ভাবে চুরি করা যাচ্ছে না। তাই পন্থা নেওয়া হয়েছে। একশ দিনের প্রকল্পের আওতায় বৃক্ষরোপণ তথা গাছের চারা লাগানো হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু আদতে কোনও গাছই লাগানো হচ্ছে না। পর্যবেক্ষণে গেলে বলা হচ্ছে তা আমফান, বুলবুলে ধুয়ে গেছে। শুভেন্দুর দাবি এ ভাবে স্রেফ কুলতলি বিধানসভার জয়নগর ব্লকে ৩৮ কোটি খরচ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে কিছুই খুঁজে পাওয়া যাবে না। আগে সেখানে একশ দিনের প্রকল্পে যে কাজ হত, সে সব বন্ধ করে শুধু গাছের চারা লাগানো হচ্ছে খাতায় কলমে। আর শাসক দলের পেটোয়া লোকেদের জব কার্ড দিয়ে টাকা লুঠ হচ্ছে।

শুভেন্দুর এও দাবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এই দুর্নীতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে কিছু অফিসার। আর তাই যেই না কেন্দ্রীয় টিম পর্যবেক্ষণে এসেছে ওমনি এক শ্রেণির পঞ্চায়েত কর্মকর্তা ও অফিসার নার্ভাস হয়ে গেছে। বিভিন্ন পঞ্চায়েত রাত জেগে কাজ চলছে। সমস্ত কাগজপত্র সরানোর কাজ চলছে বলে বিরোধী দলনেতার অভিযোগ।

শুভেন্দু চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে যা বলেছেন, সে কথা অবশ্য গত কয়েক মাস ধরে তিনি ধারাবাহিক ভাবেই বলছেন। তাঁর দাবি, যে হেতু তিনি তৃণমূল সরকারের মধ্যে থেকে কাজ করেছেন, তাই তাঁর কাছে সব তথ্য রয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদল করেও টাকা ঘোরানো হচ্ছে। আচ্ছা গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ হাজার হাজার কোটি টাকা শাসক দলের লোকজন চুরি করে নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাংলায় ৪০ লক্ষ বাড়ি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকৃত যাদের দরকার তারা তা পায়নি বা সেখান থেকেও টাকা লুঠ হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বিষয়টা খুবই পরিষ্কার। যে কোনও রাজ্যের জন্যই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ প্রয়োজন। এই টাকায় রাজ্যের অধিকারও রয়েছে। তা ছাড়া অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ীও রাজ্যর টাকা পাওয়ার কথা। ফলে কেন্দ্র থেকে ঠিকমতো অর্থ বরাদ্দ না হলে রাজ্য চাপে পড়তে বাধ্য। উপরি বাংলায় বেশ কিছু পপুলার প্রোজেক্ট চালু করে রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। তাতে কোষাগারে চাপ আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন কেন্দ্রের থেকে টাকা চাইছেন, তেমনই শুভেন্দুরা চাইছেন দুর্নীতির প্রমাণ দিয়ে আর্থিক অবরোধ তৈরি করতে। যাতে অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে রাজ্য সরকার আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তৃণমূল রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখোমুখি হয়। তবে সমস্তটাই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বোঝাপড়ার উপর। সেই বোঝাপড়া যদি ইতিবাচক পথে থাকে তা হলে শুভেন্দুদের আপত্তি ধোপে টিকবে না। কিন্তু ওই বৃহত্তর বোঝাপড়ায় ফাটল ধরে প্রকারান্তরে রাজ্যও বিপাকে পড়তে পারে। এখন দেখার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী কী অবস্থান নেন। বিশেষ করে একশ দিনের প্রকল্প খাতে বকেয়া টাকা যদি শিগগির রিলিজ হয় তা হলে বুঝতে হবে বোঝাপড়া ইতিবাচক পথেই হয়েছে।

পার্থর ব্যক্তিগত সচিব ও ওএসডিকে বাধ্যতামূলক অপেক্ষায় পাঠালেন মমতা

You might also like