Latest News

ডিসেম্বরে কাঁথিতে সভা শুভেন্দুর, অভিষেক কি এটাই চেয়েছিলেন?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার কাঁথিতে সভা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেই দিনই অভিষেকের নির্বাচন কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে পাল্টা সভা করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এ বার অভিষেকের সভার পাল্টা হিসাবে কাঁথিতে (Kanthi) ফের জনসভা করবেন শুভেন্দু। ২১ ডিসেম্বর সেই সভা হবে।

শুভেন্দুর এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি অভিষেকদের পরিকল্পনাই সফল হচ্ছে? কিন্তু কেন এই জল্পনা?

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, জল্পনা এই কারণেই যে তৃণমূলও সম্ভবত এটাই চাইছিল। একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীকে অনেকটাই আটকে দেন। মমতা নন্দীগ্রামে প্রার্থী না হলে শুভেন্দুকে হয়তো নন্দীগ্রামে অত সময় দিতে হত না। কারণ, তিনি ভোটের আগে ঘরোয়া মহলে জানিয়ে রেখেছিলেন তাঁর ভাই সৌমেন্দুকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করে তিনি দক্ষিণ কাঁথিতে দাঁড়াবেন। কিন্তু মমতা নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়ে মাস্টারস্ট্রোক দেন। এক, শুভেন্দুকে অনেকটা সময় নন্দীগ্রামে পড়ে থাকতে হয়। সেই সঙ্গে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত হয়তো টেনশনে ছিলেন শুভেন্দু। দুই, অবিভক্ত মেদিনীপুরে সেই প্রভাবেই দারুণ ফল করে তৃণমূল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনেকে মনে করছেন, কাঁথি তথা পূর্ব মেদিনীপুরে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাড়িয়ে দিয়ে শুভেন্দুকে সেখানে বেঁধে রাখতে চাইছে তৃণমূল। ইতিমধ্যে কুণাল ঘোষকে পূর্ব মেদিনীপুরের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সপ্তাহে তিন চার দিন করে সেখানে সময় দিচ্ছেন। তা ছাড়া কাঁথিতে সভা করে অভিষেক এও বলেছেন যে, আগামী ৬ মাসে মেদিনীপুরে যে যখন যেখানে তাঁকে ডাকবেন, সেখানেই সভা করবেন তিনি।

কাঁথি শুভেন্দু তথা অধিকারীদের গড় বলে পরিচিত। কেউ কেউ বলছেন, গড় এমন হওয়া উচিত যে সেখানকার ভোটার তথা জনতার সঙ্গে ওই জনপ্রতিনিধির বা রাজনীতিকের প্রবল আস্থার সম্পর্ক থাকবে। বাইরে থেকে কেউ দুম করে এসে প্রভাব খাটাতে পারবে না। এখন যদি অভিষেক সেখানে সভা করতেই পাল্টা সভা করতে হয়, তা হলে গড় বা দুর্গের মৌলিক ধারণাতেই আঘাত লাগে।

অভিষেক অবশ্য কাঁথি বা মেদিনীপুরকে আর অধিকারী গড় বলে মানতে নারাজ। তাঁর কথায়, পূর্ব মেদিনীপরে ১৬ টি আসনের মধ্যে ৯ টিতেই জিতেছে তৃণমূল। অবিভক্ত মেদিনীপুরে তৃণমূল তার প্রভাব অটুট রেখেছে। এরপর আবার কারও গড় থাকে নাকি!

শুভেন্দুর বাড়ির ২০০ মিটারের মধ্যে পি কে কলেজের মাঠে সভা করেছিলেন অভিষেক। তারপর বলেছিলেন, আমি ১৫ দিন সময় দিচ্ছি। উনি ওনার খাতা নিয়ে আসুন। আমি আমার খাতা নিয়ে আসব। জনতার সামনে যদি উলঙ্গ করে দিতে না পারি তা হলে রাজনীতিতে পা রাখব না। এ কথা বলে অভিষেক গত দশ বছরে কাঁথি-হলদিয়া এলাকায় একাধিক দুর্নীতির হিসাব দেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওখানে এক জন ঠিকাদার, এক জন চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে একটা দুর্নীতি চক্র ছিল। সেচ, হলদিয়া উন্নয়ন পর্যদ, কাঁথি-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির সব কাজ ওই এক ঠিকাদারই পেতেন। আর ওই চিফ ইঞ্জিনিয়ার সরকারি চাকরি করে কলকাতা-বর্ধমান মিলিয়ে একাধিক বাড়ি, বাগানবাড়ি বানিয়েছেন। এখন নিউ টাউনে ১০ কোটি টাকা দিয়ে বাড়ি বানাচ্ছেন। বেঙ্গালুরুতেও বাড়ি বানানোর প্ল্যান করছেন।

এর পাল্টা শুভেন্দু অবশ্য দাবি করেছেন, ডিসেম্বরে বড় কিছু ঘটতে চলেছে। এবং তা খুব বড় হবে। এতটাই বড় যে তিনি ছোটা হাতি করে লাড্ডু নিয়ে ডায়মন্ড হারবারে খাওয়াতে যাবেন।

‘এই লোকটা দিলীপ ঘোষের মতো দেখতে না?’

You might also like