Latest News

কোভিড ক্ষতিপূরণে দেরি, রাজ্যই অসহায় পরিবারগুলির কাছে যাক, বলল ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড ১৯ এ  (covid 19) প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলির (family) দুঃখ মোচনে এগিয়ে এল সুপ্রিম  কোর্ট। শীর্ষ আদালত গত অক্টোবরে  বলেছিল,  কোনও  রাজ্যই তাঁদের  ক্ষতিপূরণ (compensation) দিতে অস্বীকার করতে পারবে না, আবেদন পেশ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে মিটিয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা হয়নি। এতে ক্ষোভ  প্রকাশ করে অন্ধ্রপ্রদেশ ও বিহার সরকারের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি কেরল সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যকে তিরস্কার করল সুপ্রিম কোর্ট (supreme court)।

কোভিডে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় বা দিতে বিলম্ব (delay) করায় সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, ওরা (অন্ধ্র ও বিহার সরকার) আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বুধবার সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্য সচিবদের বেলা ২টার শুনানি থেকে হাজির থাকার জন্য তলব করে বিচারপতি এমআর শাহ ওই মন্তব্য করেন। শীর্ষ আদালত বলেছে, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক বারবার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশের তরফে  চূড়ান্ত গাফিলতি ফুটে উঠেছে। ওরা এই আদালতের আদেশ মানতে আদৌ সিরিয়াস নয় বলে মনে হয়। ক্ষতিপূরণ না মেটানোর  কোনও যুক্তিই নেই।

সর্বোচ্চ আদালত উল্লেখ করেছে, অন্ধ্র জানিয়েছিল ৩৬ হাজার ক্ষতিপূরণের আবেদন এসেছে, যার  মধ্যে বৈধ ৩১ হাজার। কিন্তু মাত্র ১১০০০ পরিবার টাকা পেয়েছে! যোগ্য  দাবিদারকে টাকা না দেওয়া আমাদের আগের আদেশ লঙ্ঘনের সামিল, যার দায় মুখ্য সচিবের। তাঁকে এসে বলতে হবে, কেন আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে না!

বিহার তিরস্কৃত হয়েছে কোভিডে কম মৃত্যুর পরিসংখ্যান পেশের অভিযোগে। বিচারপতি শাহ বলেন, আপনারা তো পরিসংখ্যান পর্যন্ত আপডেট করেন না। আপনাদের কথামতো মাত্র ১২ হাজার মরেছে। আমরা প্রকৃত তথ্য চাই। অন্য রাজ্যগুলিতে আমাদের আগের রায়ের পর মৃত্যু সংখ্যা বেড়েছে! আপনাদের মুখ্যসচিবকে ডাকুন। আমরা মানতে রাজি নই যে মাত্র ১২হাজার মারা গিয়েছেন। বিহার এপর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ কোভিড ১৯ সংক্রমণেরর মধ্যে ১২১৪৫জনের  মৃত্যুর পরিসংখ্যান দিয়েছে।

পাশাপাশি মোট নথিভুক্ত মৃত্যুসংখ্যা ও জমা পড়া ক্ষতিপূরণের আবেদনপত্রের সংখ্যার মধ্যে ‘খুব মারাত্মক’ ব্যবধানের উল্লেখ করেও কমবেশি সব রাজ্যকে কাঠগড়ায় তুলেছে বেঞ্চ।

বিচারপতি সঞ্জীব খন্না বলেন, এর মানে কি এটাই যে, লোকে অনলাইনে ক্ষতিপূরণ পেশ করার ফর্ম পাচ্ছে না? আমাদের কি সমান্তরাল আইনি স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে?

গুজরাতের উল্লেখ করেছে আদালত।  সেখানে ১০১৭৪টি মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে, অথচ ক্ষতিপূরণ দায়ের হয়েছে প্রায় ৯১ হাজার।আবার কেরলের ছবি উল্টো। সেখানে ৫১ হাজার মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে, কিন্তু ক্ষতিপূরণের আবেদন এসেছে মাত্র ২৭ হাজার! বেঞ্চ বলেছে, কী করে মাত্র ২৭ হাজার আবেদন এল। অন্য রাজ্যগুলিতে তো নথিভুক্ত মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে বেশি আবেদন এসেছে। কেন এই উল্টো প্রবণতা?

বেঞ্চ বলেছে, এককালীন ক্ষতিপূরণের আবেদন যেন ‘টেকনিক্যাল কারণে’ খারিজ করা না হয়। দাবিদারদের আবেদনপত্রে ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। এধরনের দাবি খতিয়ে দেখতে হবে গ্রিভান্স রিড্রেসাল কমিটিকে, এক সপ্তাহের মধ্যে।

বিহারের উল্লেখ করে বিচারপতি খন্না বলেন, ওরা বলেছিল, যারা ক্ষতিপূরণ পায়নি, তারা সম্ভবতঃ গরিব বা নিরক্ষর। সেক্ষেত্র ওদের কাছে পৌঁছতে বাড়তি উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু কাগজে চেষ্টা সীমাবদ্ধ হলে চলবে না। টাকাটা ওদের দিতে হবে।

 

You might also like