Latest News

জঙ্গলে উদ্ধার স্যুটকেস-বন্দি টুকরো করা মৃতদেহ! শ্রদ্ধার হতে পারে, অনুমান দিল্লি পুলিশের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানার ফরিদাবাদে স্যুটকেস-বন্দি অবস্থায় উদ্ধার হল মানুষের টুকরো করা দেহাংশ (Suitcase With Body Parts)। পুলিশের অনুমান, ওই দেহাংশ শ্রদ্ধা ওয়াকারের (Shraddha Walkar) হলেও হতে পারে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে ফরিদাবাদ পুলিশের সঙ্গে মিলে তদন্ত শুরু করেছে দক্ষিণ দিল্লির মেহেরৌলি থানার পুলিশ।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদাবাদে সুরজকুণ্ড জঙ্গলে একটি স্যুটকেস পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায় পুলিশ। স্যুটকেসটি খুলতেই দেখা যায়, তার ভিতর প্লাস্টিকের ব্যাগ এবং বস্তার মধ্যে মুড়ে রাখা রয়েছে মানুষের টুকরো করা দেহাংশ, যার মধ্যে রয়েছে ধড়ের অংশও। স্যুটকেসটির কাছেই জামাকাপড় এবং একটি বেল্টও পাওয়া গেছে। ফরিদাবাদ পুলিশের অনুমান, এই দেহাবশেষ প্রেমিক আফতাব আমিন পুনওয়ালার হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া দিল্লির তরুণী শ্রদ্ধা ওয়াকারের হতে পারে।

এর পরেই সঙ্গে সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফরিদাবাদ পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অন্য কোনও জায়গায় খুন করার পর মৃতদেহ টুকরো করে কেটে ফরিদাবাদের জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের অনুমান, মৃতদেহটি মাসখানেকের পুরনো। তবে সেটি কোনও পুরুষের মৃতদেহ, নাকি নারীর তা বোঝা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই দেহাংশগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরিদাবাদ পুলিশের তরফ থেকে দিল্লি পুলিশকে জানানো হয়েছে, তারা চাইলে নমুনাগুলির ডিএনএ পরীক্ষা করাতে পারে।

গত মে মাসে দিল্লিতে লিভ-ইন সঙ্গী আফতাবের (Aftab Amin Poonawala) হাতে খুন হয়েছিলেন আদতে মহারাষ্ট্রের পালঘরের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সি শ্রদ্ধা ওয়াকার। একটি ডেটিং সাইট থেকে আলাপ হওয়ার পর দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরিবারের অমতেই আফতাবের সঙ্গে দিল্লিতে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে লিভ-ইন করতে শুরু করেছিলেন আফতাব-শ্রদ্ধা। কিন্তু সেই সম্পর্কে শ্রদ্ধা যে আদৌ ভাল ছিলেন না, তার প্রমাণ মিলেছে। আফতাব তাঁকে মারধর তো করত বটেই, এমনকী প্রেমিক তাঁকে মেরে কেটে টুকরো করতে পারে আশঙ্কা করে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে পুলিশকে চিঠি লিখেছিলেন শ্রদ্ধা।

তবে মে মাসের সেই খুনের ঘটনা সামনে এসেছে সম্প্রতি, যা জেনে হাড় হিম হয়ে গেছে দিল্লি সহ গোটা দেশের। জানা গেছে, শ্রদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর তাঁর দেহটি ৩৫টি টুকরো করে কেটে ফেলে আফতাব। এরপর একটি ফ্রিজ কিনে শ্রদ্ধার দেহাংশ গুলি সেখানে সংরক্ষণ করে রাখে সে। টাইপর ১৮ দিন ধরে প্রতিরাতে একটু একটু করে টুকরোগুলি মেহেরৌলির জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসতে শুরু করে সে।

ঘটনায় ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালিয়ে হাতে এসেছে পুলিশের। আজ শুক্রবার পলিগ্রাফ টেস্ট করা হয়েছে আফতাবের। তদন্তকারীরা তাকে ৫০টি প্রশ্ন করেছেন বলে জানা গেছে। আপাতত আফতাব তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে বলে সূত্রের খবর। তবে খুনের মোটিভ প্রমাণ করার জন্য আফতাবের নার্কো টেস্টও করানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

‘শ্রদ্ধাকে ৩৬ টুকরোও করতে পারত!’ আফতাবকে সমর্থন করে মুসলিম সাজল যুবক! তারপর…

You might also like