Latest News

মমতা কি অফসাইড ট্র্যাপে ফেলেছেন শুভেন্দুকে, সাফাই দিয়ে ফিরছেন বিরোধী দলনেতা

শ্যামশ্রী দাশগুপ্ত

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচের কথা মনে পড়ে? প্রথমার্ধ্বে সৌদি আরব কৌশল করে বার বার অফসাইড ট্র্যাপে ফেলছিল লিও মেসিদের। লাওতারো মার্টিনেজের পর পর দুটি গোলই বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে। বিশ্বকাপের মরসুমে বাংলাতেও যেন অফসাইড ট্র্যাপ দেখা যাচ্ছে! মস্করা করে অনেকেই বলছেন, দিদি (Mamata Banerjee) কি অফসাইড ট্র্যাপে ফেলে দিলেন শুভেন্দু অধিকারীকে (Subhendu Adhikari)।

ব্যাপারটা ছিল একেবারেই সাদামাটা। শুক্রবার বিধানসভার (West Bengal Assembly) অধিবেশন চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মার্শাল মারফৎ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বার্তা পাঠান, চাইলে উনি এসে দেখা (meeting) করতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী-বিরোধী দলনেতার সাক্ষাৎ হবে সেটা অতীব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু স্বাভাবিকতায় প্রথম পরত জুড়ে দেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষে একা যাওয়ার মতো রাজনৈতিক ঝুঁকি তিনি নিতে পারেননি। বরং সঙ্গে অগ্নিমিত্রা পল, মনোজ টিগ্গা, অশোক লাহিড়িকে নিয়ে যান। শুভেন্দু ও বাকি তিন বিধায়ক মাত্র কয়েক মিনিট ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে। তারপর সেই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

এরপরই দেখা যায় শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে সাফাই দিয়ে বলছেন, “এটা সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। উনি আমাকে একা ডেকেছিলেন। কিন্তু আমি আরও তিন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে দেখা করতে গিয়েছিলাম”।

এর মধ্যে সংবাদমাধ্যমের কেউ কেউ রটিয়ে দেন যে শুভেন্দু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছেন। শুভেন্দু সেই কথা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু ইদানীং পরিস্থিতি যা, তাতে দশ চক্রে ভগবান ভূত হওয়ার মতো অবস্থা। হয়েছেও তাই।

শনিবার সকালে দিলীপ ঘোষ যখন প্রাতঃভ্রমণের পর রোজনামচার মতোই সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন, তখন শুভেন্দুকে নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। দিলীপবাবু জবাবে বলেন, “ওঁদের অনেক পুরনো সম্পর্ক”। আবার কোনও এক সাংবাদিক প্রশ্ন করে বসেন, শুভেন্দু পায়ে হাত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রণাম করেছেন। জবাবে দিলীপ বলেন, অনেকে তো কালীঘাটে পর্যন্ত যান প্রণাম করতে।

ব্যাপারটা এখানেই থেমে থাকেনি। শনিবার এ নিয়ে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী নিজ নিজ ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে জল আরও ঘোলা হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পোড় খাওয়া রাজনীতিক। তিনি হয়ত এটা আন্দাজ করেই শুভেন্দুকে ডেকেছিলেন। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছেন শুভেন্দু। তারপর সেই দলের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হয়েছেন। এখন আবার বিজেপির মধ্যেই জল্পনা যে দলের রাজ্য সভাপতি হতে পারেন তিনি। কিন্তু এ ব্যাপারটা আবার রাজ্য বিজেপির পুরনো অনেক নেতা কর্মীর পছন্দ নয়। তাঁদের মতে, বাইরে থেকে কেউ একজন এসে তাঁদের উপর ছড়ি ঘোরাবেন, এটা কেমন কথা। অর্থাৎ বিজেপিতে পুরনো ও নব্যদের মধ্যে আড়াআড়ি ভাবে একটা অদৃশ্য বিভাজনের রেখা রয়েছে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেন্দু দেখা করতে যাওয়ার পর দলের মধ্যেই কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, কী দরকার ছিল যাওয়ার। বাম জমানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো এমন কখনও করেননি। তিনি আপসহীন রাজনীতি করেছেন। চুম্বকে দেখা যাচ্ছে, অফসাইডে পড়ে গিয়েছেন শুভেন্দু।

এই প্রেক্ষাপটে যে সম্ভাবনার কথা শুক্রবারই কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলতে শুরু করেছিলেন, সেটাই ঘটতে শুরু করেছে। এদিন বনগাঁর ঠাকুরনগরে সভা ছিল শুভেন্দুর। দেখা গিয়েছে, সেখানে দ্বিগুণ উৎসাহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শব্দটা বসানোই আমার রাজনৈতিক লক্ষ্য। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শুক্রবারের বৈঠকের পূর্বাপর ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ শুভেন্দু বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, যে বিধানসভায় যেটা ঘটেছে, সেটা কিছু নয়। তাঁর মমতা-বিরোধিতা অব্যহত থাকবে।

পর্যবেক্ষকদের কারও কারও মতে, এখন নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীরকম মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন! বিধানসভার মিটিং যদি স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে থাকে তা হলে তা নিয়ে এত ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন কী? শুভেন্দু এখন যত ব্যাখ্যা দেবেন, তত বেশি স্পষ্ট যে অফসাইডে গোল করে ফেলেছেন তিনি।

মমতা শুভেন্দুর বহু পুরনো সম্পর্ক, কী আছে জানি না : দিলীপ ঘোষ

You might also like