Latest News

মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর সময়ে রাজনীতির হাতিয়ার ধর্ষণ! বাগনান-কাণ্ড নিয়ে শুভেন্দু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাগনান গণধর্ষণ নিয়ে সরব হয়েছেন একের পর এক বিজেপি নেত্রী। গতকালই বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী তথা আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেছেন পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার। ইংরেজবাজারের বিজেপি বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী টুইট করে লিখেছেন, “নারী অত্যাচারে এগিয়ে বাংলা!”

এবার এ নিয়ে তীব্র নিন্দা করলেন অন্যতম বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এদিন বলেন, “আমি বিস্মিত, যে ধর্ষণকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর সময়কালে।”

গতকাল শুভেন্দু হাসপাতালে গিয়েছিলেন বাগনানের বিজেপি কর্মী হরিসাধন পালের ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে। তিনি বাগনানের তৃণমূল নেতা কুতুবউদ্দিন মল্লিক এবং দেবাশিস রানার প্রশ্রয়ে তৃণমূল কর্মীদের হাতে নির্মমভাবে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন শুভেন্দু। তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশ ও প্রশাসন এই অমানবিক অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার এবং অপরাধীদের বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।


শনিবার গভীর রাতে আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের বাগনান থানার বাইনান এলাকার ঘটনায় নির্যাতিতা মহিলার কয়েক মাস আগে স্ট্রোক হওয়ার কারণে তিনি এখন কথা বলতে পারেন না। তাঁকে একা বাড়িতে পেয়ে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী কুকর্ম করেছে বলে অভিযোগ।

সারা রাত চলে এই নির্যাতন। ভোরবেলা নির্যাতিতা মহিলার ছোটো ছেলে ঘুম থেকে উঠে দেখেন হাত পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তাঁর মা। বাবার মোটরসাইকেলটি তাঁর উপর চাপানো রয়েছে। তড়িঘড়ি বাবাকে ফোন করে সমস্ত ঘটনা জানান মহিলার ছেলে। তারপরেই তাঁর মাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে। পরে পাঠানো হয় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে।

শুভেন্দুর কথায়, “প্রাথমিক কাজ ওঁকে সুস্থ করে তোলা, হাসপাতালের অব‍্যবস্থা দেখে উন্নত চিকিৎসার জন‍্য ওঁকে কলকাতায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করার ব‍্যবস্থা করেছি, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দ্বিতীয় অগ্রাধিকার। এটা না হওয়া পর্যন্ত আমি থামব না।”


ঘটনার পরে আকারে ইঙ্গিতে মহিলা যা জানিয়েছেন, তাঁর ভিত্তিতেই দায়ের হয়েছে অভিযোগ। ধৃতদের সোমবার উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে সাহিদ মল্লিক ও জয়নাল মল্লিককে ছ’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্যাতিতা মহিলার স্বামী জানিয়েছেন তিনি বিজেপির সক্রিয় কর্মী। তাঁদের বুথ থেকে গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি লিড পেয়েছে, তাই আক্রোশের কারণে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি এবং তার পরিবার যথেষ্টই আতঙ্কিত রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। গোটা ঘটনায় এলাকাতেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

You might also like