Latest News

সুভাষ ভৌমিকের নারীসঙ্গ-ডোপিং, বুলডোজারের বিস্ফোরক আত্মজীবনী প্রকাশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি ছিলেনই বিতর্কিত। ৭০ দশকেই সিগারেট খেয়ে মাঠে নামতেন। ময়দানে কথিত রয়েছে, সুভাষ ভৌমিক ফুটবলার হিসেবে বড় ছিলেন সন্দেহ নেই, কিন্তু তিনি ছিলেন বোহেমিয়ান চরিত্রের। এমনও হয়েছে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় মাঠে এসেও দলের হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন।

সেইসব স্মৃতি ফিরেছে বইতে। সুভাষের জীবন ছিল লার্জার দ্যান লাইফ, তিনি প্রথমে ফুটবলার, তারপর কোচ, এমনকি নামী ফুটবল বিশেষজ্ঞও ছিলেন। বুধবার লেক গার্ডেন্সের রোয়িং ক্লাবে ছিমছাম অনুষ্ঠানে প্রয়াত কিংবদন্তি তারকার আত্মজীবনী প্রকাশ পেল। সুভাষের পুত্র অর্জুন ও কন্যা শিপ্রা ভৌমিক থেকে অনুষ্ঠানের আকর্ষণ বাড়িয়েছেন।

বইয়ের ছত্রে ছত্রে বিতর্ক রয়েছে, সুভাষ বলেছেন, সেটি টেপ রেকর্ডার নিয়ে দাঁড়ি-কমা রেখে লিখে গিয়েছেন নামী সাংবাদিক সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায়। ওই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন সুভাষের একদা ছায়াসঙ্গী আরও এক নামী প্রাক্তন, বাইসাইকেল কিকমাস্টার শ্যাম থাপা। তিনি বলেছেন, সুভাষ ছিলেন মেজাজী। কোচ পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও বহুবার ঝামেলা হয়েছে। কিন্তু সেই ঝামেলা তিনি ভুলে যেতেন, আবারও কাছের হয়ে উঠতেন কোচের কাছে।

একবার কোচ পিকে-র সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যালাপ হয়েছিল তাঁর। কিন্তু খেলা শেষে সুভাষ দলকে জিতিয়েছিলেন, তারপর কোচ এসে নতিস্বীকার করতে তিনি কোচকে আলিঙ্গন করে কেঁদে ফেলেছিলেন। সুভাষ ছিলেন জাত ফুটবলার। উচ্ছ্বল, শৃঙ্খলাহীন থেকেও ম্যাচের পর ম্যাচ ধারাবাহিক ছিলেন। তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্স বারবার আলোচনায় উঠে আসত।

সুভাষ ছিলেন ফুটবলার্স কোচ। তিনি ফুটবলারদের ভালর জন্য কর্তাদের সঙ্গে বিবাদে যেতেন। সেই ঘটনা তুলে ধরে এদিন ইস্টবেঙ্গলের নামী কর্তা দেবব্রত সরকার বলেছেন, ‘‘বিজেন সিংয়ের পেট খারাপ হওয়া নিয়ে আমাকে যা বলেছিলেন সুভাষদা, আমি সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমাকে বলেছিলেন, তোরা যখন দায়িত্ব নিতে পারিস না, সেইসময় দায়িত্ব নিচ্ছিস কেন? তার মানে ফুটবলারদের ভালর জন্য তিনি সবসময় আমাদের চাপে রাখতেন। তাই আমি কোচ হিসেবে সুভাষ ভৌমিককে পাঁচ নম্বর বেশি হলেও দেব।’’

লাল হলুদ কর্তার মতে, ফুটবলার সুভাষ ভৌমিক মাঠে আসতেন, দলকে জেতাতেন, বাড়ি চলে যেতেন, তার কাজ শেষ হয়ে যেত। কিন্তু কোচ সুভাষ সারাক্ষণ ফুটবল নিয়ে চর্চায় থাকতেন। তাঁর জন্যই আমাকে সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠতে হতো।

শ্যাম থাপা জানালেন, দার্জিলিং গোর্খা রেজিমেন্ট থেকে ইস্টবেঙ্গলে খেলার সুযোগ সুভাষের হাত ধরেই হয়েছিল। নাট্যকার দেবশঙ্কর হালদার বলেন, সুভাষ তাঁর নাটক অ্যাকাডেমি ফাইন আর্টসে দেখতে গিয়েছিলেন। নাটকটি দেখে তাঁর ভাল-মন্দ ব্যাখ্যা করেছিলেন।

বইতে সুভাষের নারীসঙ্গ নিয়ে বলা আছে। তিনি নারীসক্ত হয়ে গিয়েছিলেন, এই নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, তিনি সুরাপানে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। ভাল পারফরম্যান্সের জন্য তিনি ডোপ নিয়েছিলেন, সেটিও বইতে লেখা রয়েছে। প্রসঙ্গত, বইয়ের প্রকাশক দীপ প্রকাশন।

You might also like