Latest News

ধর্ষণের চেষ্টাতেও রেয়াত নয়, তা কতটা অপরাধ, জানাল কেরল হাইকোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারী নির্যাতন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের কথা ভারতের আনাচে কানাচে হামেশাই শোনা যায়। এই অপরাধে ইতি টানতে এবার কড়া হল কেরল হাইকোর্ট। তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানালো আদালত।

নারী শরীরের যে কোনও অংশে আক্রমণকেই ধর্ষণের সমান অপরাধ বলে গণ্য করা হবে, এমনটাই জানিয়েছে কেরল হাইকোর্ট। বলা হয়েছে, শুধুমাত্র নারী শরীরে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করলেই যে তা ধর্ষণ, এমনটা নয়। এবার থেকে ধর্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে নারী শরীর স্পর্শ, কিংবা আক্রোশের বশে নারীদের আক্রমণ সবটাই চরম অপরাধ হিসেবে দেখবে আদালত। অভিযোগ প্রমাণে শাস্তিও হবে ধর্ষণের সমান।

একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন এই পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে উচ্চ আদালত। জনৈক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লাগাতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন প্রতিবেশী এক যুবতী। নিম্ন আদালতে সেখানে ওই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হলে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু হাইকোর্ট তাঁর পক্ষে রায় দেয়নি। উল্টে এই মামলার সূত্র ধরেই কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন উচ্চ আদালতের বিচারপতি।

বিচারপতি বিনোদ চন্দ্রন এবং বিচারপতি জিয়াদ রহমানের বেঞ্চ এদিন জানায়, যদি নির্যাতিতার দেহ অসৎ উদ্দেশ্যে স্পর্শ করা হয়, তবে তা ধর্ষণ হিসেবেই ধরে নেওয়া হবে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী শাস্তিও হবে অপরাধীর।

প্রসঙ্গত, আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নতুন নয়। এর আগেও একাধিক মামলায় অনুরূপ মত দেওয়া হয়েছে। শুধু ধর্ষণ নয়, ধর্ষণের চেষ্টাও সমান অপরাধ হিসেবে দেখতে চাইছে দেশের বিচারব্যবস্থা। সেই মতকেই আরও খানিক প্রতিষ্ঠা দিল কেরল হাইকোর্ট।

পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় কেরল হাইকোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ধর্ষণ আর ধর্ষণের উদ্দেশ্য আমির কাছে একই মানসিকতার প্রতীক। এই দুইয়ে কোনও পার্থক্য নেই। যেমন মেরে ফেলা আর মেরে ফেলতে চাওয়া এই দুইয়ের মধ্যেই মানসিকতা একই থেকে যায়। কেরল হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে তা খুবই গ্রহণযোগ্য কারণ ধর্ষণ দেশ জুড়ে বাড়ছে। এটি এখন আর শুধুই ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হিংস্রতা, উত্তেজনা, আনন্দ। গণধর্ষণের ঘটনাগুলো দেখলে এবং তার পরিণতি দেখলে সেই মানসিকতার চিত্রই বেরিয়ে আসে। তাই এই রায় খুবই সময়োপযোগী।

You might also like