Latest News

শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে কাহিল, হাসপাতালের বিল শুনে হেডমাস্টারকে চিঠি লিখল ছাত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ বিয়ে হয়ে গেছে, কিন্তু সংসারে অশান্তি। স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ির অত্যাচার মাথায় নিয়েই দু’বছর ধরে দাঁতে দাঁত চেপে ছিল সে। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যায়। শ্বশুরবাড়ির মারধর খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় রফিতা পাইককে। সেখান থেকেই শেষমেশ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে সাহায্য চাইল সে।

ঘটনাটি ঘটেছে ডায়মন্ডহারবারে। সেখানেই পারুল মোড়ের কাছে একটি হাসপাতালে ভর্তি রফিতা পাইক। কিন্তু অভিযোগ, হাসপাতালে ৬০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে তাঁর কাছ থেকে। রফিতার গরিব বাবার এত টাকা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তাই স্কুলের হেডমাস্টারের কাছে সাহায্য্য চেয়ে চিঠি লিখতে বাধ্য হয়েছে সে।

চিঠিতে রফিতা জানিয়েছে, দু’বছর আগে তার বিয়ে হয়েছে। স্বামীর নাম হাফিজুর মোল্লা। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই নাকি তার উপর অত্যাচার চালান শ্বশুরবাড়ির সকলে। নিয়মিত মারধরও করা হয়। ের মধ্যে গত ২১ নভেম্বর শ্বশুর শাশুড়ি ননদ জা স্বামী সবাই মিলে রফিতার উপর চড়াও হয়প বলে অভিযোগ। রফিতা জানিয়েছে, তাকে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেশীরা এসে উদ্ধার করেন এবং তাকে তার বাবার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকেই হাসপাতালে ভর্তি রফিতা।

কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসা পেলেও সেখান থেকে ছুটি মিলছে না। মোটা টাকার বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে রফিতার উপর। এই পরিস্থিতিতে আর কোনও উপায় না দেখে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে চিঠি লিখেছেন রফিতা।

জানা গেছে রফিতা পাইক কৃষ্ণনগর হাইস্কুলের ছাত্রী ছিলেন। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টারস অ্যান্ড হেডমিসট্রেসের সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানিয়েছেন, ছাত্রীর চিঠি তিনি পেয়েছেন এবং তা নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা তিনি গ্রহণ করছেন। ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। প্রাক্তন ছাত্রীর নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তিনি। মেয়েটির সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্বও শ্বশুরবাড়িকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্কুলের তরফে কথাবার্তা বলা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও। যাতে তারা টাকা-পয়সার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখেন, সেই অনুরোধ রাখা হয়েছে হাসপাতালের কাছে।

You might also like