Latest News

শীতেই দুর্গাপুজো! অসময়ের উৎসবে মেতে কাটোয়ার আমূল গ্রাম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীতকালে দুর্গাপুজো? সে আবার হয় নাকি! কিন্তু এমনই অসময়ের শারদোৎসবে মেতে আছে কাটোয়া মহকুমার আমূল গ্রাম। শরতের নীল আকাশ, শিউলির গন্ধ কিছুই সেখানে আবশ্যক নয়। আমূল গ্রামে মাঘ মাসেই দেয়াসিন চণ্ডীমায়ের পুজো হয়। সেই উপলক্ষে চারদিন ধরে চলে উৎসব।

আমূল গ্রামে দেয়াসিন চণ্ডী মায়ের পুজো শুরু হয়েছিল প্রায় ৫০০ বছর আগে। গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পারিবারিক পুজো হিসেবেই এই পুজোর সূচনা হলেও কালক্রমে এই পুজো সার্বজনীন পুজোর রূপ নেয়। প্রাচীন কাল থেকেই মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের নবমী তিথিতে শুরু হয় দেয়াসিন চণ্ডীমায়ের পুজো।

দুটো মূর্তি পাশাপাশি রেখে পুজো করা হয়। মূর্তি দুটির একটি আদি শিলামূর্তি অপরটি মাটির প্রতিমা। আমূল গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার সূত্রে জানা যায় পরিবারের এক পূর্বপুরুষ স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। দেয়াসীন দীঘির জল থেকে দেবী চণ্ডীর শিলা মূর্তিটি তিনিই উদ্ধার করেন। সেই বছর থেকেই মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের নবমী তিথিতে এই পুজোর সূচনা হয়।

দেয়াসীন চন্ডী মায়ের মাটির প্রতিমার ধরনও একটু অন্যরকম। মা দুর্গার মতো তাঁর দশ হাত হলেও ডানদিকে চারটি হাত ও বামদিকে ছয়টি হাত, তার মধ্যে ডানদিকের একটি ও বামদিকের দুটি হাত আবার বাকি সাতটি হাতের তুলনায় আকারে বড়ো। এই মাটির প্রতিমা বছর বছর তৈরি হয় না। শুধুমাত্র প্রতিমার অঙ্গহানি হলেই প্রতিমা পুনরায় তৈরি করা হয়।

বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার সূত্রে জানা যায়, পুজোর নিয়মও ভিন্ন। সপ্তমী থেকে নবমী চার তিথির পুজো সম্পন্ন হয় নবমী তিথিতে। তবে পুজো একদিনে হলেও উৎসব চলে চারদিন ধরে।

আমূল গ্রামের দেয়াসীন মায়ের পুজো উপলক্ষে গ্রামে মেলাও বসে। দূরদূরান্ত থেকেও বহু মানুষ এই অসময়ের দুর্গাপুজোয় সামিল হন। প্রত্যেক বছরের মতন এবছরও আমূল গ্রামের বাসিন্দারা মেতে উঠেছেন দেয়াসীন চন্ডী মায়ের পুজোয়।

You might also like