Latest News

শোভনের ঘরওয়াপসি কি পাকা? স্বামীর জন্য দিনভর নিজামে রত্না, বাবার দেখভালে ছেলে

শোভন চক্রবর্তী

সোমবার নারদ গ্রেফতার নিয়ে দিনভর যে থ্রিলার চলল কলকাতার বুকে তার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা অনেক রকম হতে পারে। তবে একটা ব্যাপার যেন অনেকেরই নজর টেনে নিল। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর, কলহ দূরে সরিয়ে পর্ণশ্রীর চাটুজ্জে বাড়ির বউ সারাদিন লড়ে গেলেন স্বামীর জন্য। দিনভর বাবার খেয়াল রাখলেন ছেলে। আর এসব টুকরো টুকরো ছবির কোলাজ দেখে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তাহলে কি তৃণমূলে ফেরার রাস্তা পাকা হয়ে গেল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের?

নিজাম প্যালেসের ১৫ তলার একটি ঘরে ছিলেন শোভন। সেই ফ্লোরে অন্য তিন কামরায় ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম ও মদন মিত্র। এও জল্পনা যে, কাননের সঙ্গেও কি দেখা হয়েছে দিদির!

সকাল দশটা। নিজাম প্যালেসের উপরে তখন নিয়ে আসা হয়ে গিয়েছে সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। চেতলা থেকে সবেমাত্র সিবিআই টিম ফিরেছে ফিরহাদ হাকিমকে নিয়ে। তখনই দেখা যায় নিজামে পৌঁছে গিয়েছেন বেহালা পূর্বের বিধায়ক তথা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। অনেকেই হতবাক হয়েছিলেন! রত্না এলেন কেন? কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম লিখেও দিয়েছিল তাঁকেও ডেকেছে সিবিআই। কিন্তু সন্ধের পর রত্না জানিয়ে দিলেন, “২২ বছরের সাংসারিক জীবন। ও তো এখনও আমার স্বামী। আমায় যাই বলুক। কোনও স্ত্রী যদি শোনে, স্বামীকে সিবিআই ধরে নিয়ে গেছে সে তো যাবেই! আমিও তাই ছুটে গেছি।” শোভনের হয়ে আইনজীবী দাঁড় করানোর ব্যবস্থা করেন রত্না।

জামিন মঞ্জুর হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই দ্য ওয়াল-এর তরফ থেকে রত্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর গলায় তখন যেন যুদ্ধ জয়ের আনন্দ। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিধায়ক হিসেবে নয়। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী হিসেবে গেছি।

আরও পড়ুন: ‘শোভনকে অনেকগুলো ওষুধ খেতে হয়, নইলে…’ প্রেসিডেন্সি জেলের বাইরে আকুল কান্না বৈশাখীর

অনেকদিন হল আম বাঙালির সোশ্যাল ওয়ালে শোভন-বৈশাখী মস্করার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিনও এত তিক্ততার পরেও শোভনের জন্য রত্নার নিজাম প্যালেসে ছুটে যাওয়া নিয়ে অনেক মিম শেয়ার হয়েছে। কেউ কেউ শোভনের উদ্দেশে টিপ্পনি কেটে লিখেছেন, “যেদিন মুক্তি পাবে তুমি, যেদিন কেটে যাবে ভয়/ যেন স্ত্রী দাঁড়িয়েছিল পাশে, কোনও বান্ধবী নয়।”

রত্নার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজাম প্যালেসের সিবিআই দফতরের ভিজিটর্স রুমে বসেছিলেন, সেই সময় আইনজীবীদের পইপই করে বলেছেন, চার জনেরই যাতে জামিন হয় তা নিশ্চিত করতে। অর্থাত্‍ দিদির নির্দেশে স্পষ্ট, শোভনকে অন্য চোখে দেখতে চাননি তিনি। তাতেই আরও তাঁর তৃণমূলে ফেরার জল্পনা জোরালো হয়েছে। কারণ প্রার্থী তালিকা নিয়ে অসন্তোষের পর বিজেপির সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে শোভনের। বলা ভাল শোভন-বৈশাখীর।

ক্যাপশন নিজাম চত্বরে রত্না

রত্না এদিন ছেলে ঋষিকে বলে দিয়েছিলেন, বাবার দেখভালের জন্য তোমায় সারাক্ষণ ওখানে ফ্লোর কামড়ে পড়ে থাকতে হবে। নাওয়া খাওয়া ভুলে তাই করেছেন শোভন-পুত্র। রাত আটটার সময়েও ঋষি ছিলেন নিজাম প্যালেসে। বাবার অদূরেই।

তবে শোভনের তৃণমূলের ফেরা নিয়ে কী বলছেন রত্না?

এ ব্যাপারে রত্না যেন পোড় খাওয়া রাজনীতিক। তাঁর কথায়, “তৃণমূলে এলে আপত্তির কী আছে। কিন্তু উনি নিজে তো এখন সিদ্ধান্ত নেন না। সব ওই মহিলাই নিয়ন্ত্রণ করেন।”

দূরত্বে থেকেও যেন আজ এক ফ্রেমে শোভন-রত্না-ঋষি। ছিলেন না শুধু মেয়ে সুহানা। কিন্তু আজকের পর তৃণমূলে শোভনের ফেরার বিষয়ে কী কী ঘটে তাতে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

You might also like