Latest News

বাড়ি দেওয়ার আগে গ্রামসভা বসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার, ডিসেম্বরের গোড়া থেকেই শুরু

রফিকুল জামাদার

গ্রামে বাড়ি বানানোর প্রকল্পে আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হওয়ার কথা। এর ৬০ শতাংশ তথা ৮২০০ কোটি টাকা দিচ্ছে। বাকি সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করবে রাজ্য সরকার (Mamata Banerjee)কারা কারা বাড়ি বানানোর জন্য সরকারের থেকে টাকা পাবেন তার তালিকা ডিসেম্বর মাসের মধ্যে তৈরি করে ফেলতে হবে। তার পর থেকেই প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া শুরু হয়ে যাবে।

কিন্তু এর মধ্যেই দিল্লি জানিয়েছে, যাদের বাড়ি দেওয়া হবে তাদের তালিকা গ্রাম সভায় অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। তার আগে কারা টাকা পাওয়ার যোগ্য নয় সেই তালিকা ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসাররা সমীক্ষা করে স্থির করবেন। তার পর যোগ্যদের তালিকা তৈরি করে গ্রামসভায় পাশ করাতে হবে।
বাংলায় পঞ্চায়েতে তৃণমূলেরই আধিপত্য রয়েছে। ফলে গ্রামসভাগুলোতেও তাদের আধিপত্য থাকবে বলেই অনেকে মনে করছেন। সূত্রের মতে, সেই কারণে কেন্দ্রের এই নির্দেশে নবান্ন অখুশি নয় বলে প্রশাসনের একাংশের দাবি। তাঁদের মতে, বরং শাসক দল মনে করছে পঞ্চায়েত ভোটের আগে জনসংযোগের সুযোগ বেড়ে যাবে তৃণমূলের কাছে। তবে হ্যাঁ গ্রামসভা ওই তালিকায় নতুন কারও নাম ঢোকাতে পারবে না। গ্রাম সভার যদি মনে হয় কোনও অযোগ্যকে তালিকায় রাখা হয়েছে, অর্থাৎ এমন লোককে তালিকায় রাখা হয়েছে যার নিজের বাড়ি বানানোর অর্থ-জোর রয়েছে, তা হলে তাঁকে গ্রাম সভা তালিকা থেকে বাদ দিতে পারবে।

নবান্নের এক কর্তার কথায়, দিল্লির ধারনা যে গ্রামস্তরে মুখ দেখে বাড়ি বানানোর টাকা দেওয়া হয়। অর্থাৎ স্বজনপোষণের আশঙ্কা করছে তারা। এমনটা যে অনেক রাজ্যে হয় না তা নয়। বাংলাও হয়তো এর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। কারণ, একেবারে পঞ্চায়েতস্তরে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী এ ব্যাপারে বহু ক্ষেত্রে প্রভাব খাটায়। তবে কেন্দ্রের এই নির্দেশ মানতে অসুবিধা নেই রাজ্যের।

নির্দেশ মতো ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারদের সমীক্ষা করে ফেলতে হবে যে কাদের বাড়ি বাবদ টাকা পাওয়ার যোগ্যতা নেয়। এ ব্যাপারে কিছু মানদণ্ড রয়েছে। যারা একশ দিনের কাজের জব কার্ড হোল্ডার তারা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান। কারণ, তাঁদের সারাবছর কাজ নেই, অর্থের সংস্থান নেই এবং সরকারি রেশন ইত্যাদির উপর নির্ভরশীলতা রয়েছে।

অযোগ্যদের বাদ দেওয়ার পর যে তালিকা তৈরি হবে তার থেকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বেছে নেওয়া হবে যে কাদের প্রথম পর্যায়ে টাকা দেওয়া হবে। ১২ তারিখের মধ্যে ওই অগ্রাধিকারের তালিকা তৈরি করে ফেলতে হবে। সেই সঙ্গে তালিকার মধ্যে কারা সংখ্যালঘু তাদের ১৫ তারিখের মধ্যে চিহ্নিত করতে হবে। এর ১৯ তারিখের মধ্যে গ্রামসভায় সেই তালিকা অনুমোদন করে ফেলতে হবে। গ্রাম সভা ওই তালিকা থেকে অযোগ্যদের খুঁজে বাদ দিতে পারবে, কিন্তু কাউকে ঢোকাতে পারবে না। অর্থাৎ স্বজনপোষণের কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না।

নির্বাচন কমিশনের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস আছে কি

You might also like