Latest News

লাঞ্চ প্যাকেটে বিস্কুট-চকলেট-আমের রস, তুমুল বিক্ষোভ প্রশিক্ষণ নিতে আসা ভোটকর্মীদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাঞ্চের প্যাকেটে পার্ক চকলেট, বিস্কুট, আমের রস আর লাড্ডু! সঙ্গে অবশ্য ছিল ডিম সেদ্ধ। কিন্তু তাতে কি আর ভেতো বাঙালির মধ্যাহ্ন ভোজ হয়! ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। দুপুরের খাবার নিতে অস্বীকার করে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন ভোট কর্মীরা। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার শহরের ম্যাক উইলিয়াম হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে শিকেয় উঠল প্রশিক্ষণ। বিক্ষোভে সামিল হলেন প্রায় ২১০০ ভোটকর্মী। একইভাবে মালদহেও ছ’ঘণ্টা প্রশিক্ষণের পর মাত্র ২০ টাকার খাবারের প্যাকেট পেয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন ভোটকর্মীরা।

আলিপুরদুয়ারে ভোটকর্মীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে থানা থেকে আইসি অনিন্দ্য ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ভোটকর্মীদের বিক্ষোভের কথা শুনে ঘটনাস্থলে হাজির হন আলিপুরদুয়ার জেলার নির্বাচন দফতরের খাবারের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক ভূষণ শেরপা, এডিএম ইন্দ্রজিত তালুকদার সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। ভোটকর্মীদের বুঝিয়ে শান্ত করেন তাঁরা।

ভোটকর্মীদের অভিযোগ দুপুরে লাঞ্চের জন্য যে প্যাকেট দেওয়া হয়েছে তাতে চকলেট, বিস্কুট আমের রস, ডিম আর লাড্ডু দেওয়া হয়েছে। ভোট কর্মী অমল দাস বলেন, “আমাদের লাঞ্চের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৭০ টাকা। অথচ আমের রস আর চকলেট বিস্কুট দিয়ে যে লাঞ্চ প্যাকেট করা হয়েছে তার বাজার মূল্য মাত্র ৪০ টাকা। আমের রস আর চকলেট দিয়ে দুপুরের আহার সারতে আমরা অভ্যস্ত নই। অন্ততপক্ষে দুটো রুটি একটু তরকারি একটা মিষ্টি দিলেও তো চলত। কোন বুদ্ধিতে লাঞ্চের প্যাকেটে চকলেট আর আমের রস দেওয়া হল। আমরা এর জবাব চাই।’’ প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ চলে। পরে আধিকারিকরা প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত ১৩০ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ তুলে নেন ভোট কর্মীরা।

আলিপুরদুয়ার জেলা নির্বাচন দফতরের খাদ্যের দায়িত্ব থাকা আধিকারিক ভূষন শেরপা বলেন, “ভোট কর্মীরা বিক্ষোভ দেখেছিলেন। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। তাদেরকে সব বুঝিয়ে বলেছি। তাদের একাউন্টে অতিরিক্ত টাকা চলে যাবে। সমস্যা মিটে গিয়েছে। আবার ভোটের প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন সব ভোট কর্মীরা।”
কিন্তু এই বিপত্তি কেন হল? জবাবে ঘটনাস্থলে ছুটে আসা আলিপুরদুয়ার জেলার এ ডি এম ইন্দ্রজিত তালুকদার বলেন, “ভোটের যাবতীয় কাজ সাধারণত পুরনো অভিজ্ঞতা ও বরাদ্দের নিরিখে হয়ে থাকে। ভোট কর্মীদের প্রশিক্ষণের দিন খাবারের জন্য আগের নির্বাচনে ৪০ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। সেই কারণে এবারও ভোট কর্মীদের দুপুরে খাবারের জন্য ৪০ টাকা বরাদ্দ ব্যয়ে প্যাকেট করা হয়েছে। আর তাতেই ঘটেছে এই বিপত্তি। তবে ২২ ফেব্রুয়ারি আমরা একটা নতুন নির্দেশিকা পেয়েছি। যাতে বেশি টাকার খাবারের কথা বলা হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই সেই নির্দেশ অনুযায়ী ভোট কর্মীদের বেশি টাকার খাবারের ব্যবস্থা করেছি। সমস্যা মিটে গেছে।’’ বুধবার থেকে অবশ্য দুপুরের খাবারের মেনু পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

মালদা জেলাতে লাঞ্চ প্যাকেটে ছিল ছোট কেক,একটা ছোট বিস্কুটের প্যাকেট আর একটা ছোট ফ্রুটি। মালদহের অক্রমণী উচ্চ বিদ্যালয় এবং চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ নিতে আসা ভোট কর্মীরা এই খাবার বয়কট করেছেন। সেখানেও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ভোট কর্মীরা। কেন পুরো টাকার খাবার দেওয়া হচ্ছে না এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। পরে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা গিয়ে তাঁদের বুঝিয়ে শান্ত করেন।

You might also like