Latest News

সাঁতরাগাছি ঝিল যেন পানাপুকুর, তাতেই ঢেউ তুলেছে পরিযায়ী পাখিরা! দেখুন দুরন্ত ভিডিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সাঁতরাগাছি ঝিল যেন পানাপুকুর। কচুরিপানার ভরা সেই সাঁতরাগাছি ঝিলেই প্রাণ এসেছে যেন। অবিরাম কিচিরমিচির! পরিযায়ী পাখিদের কলকাকলিতে মুখর গোটা এলাকা। আকাশে তাকালেও চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে পাখির নকশায়। বেশ কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে সাঁতরাগাছি ঝিলে এবার বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী পাখি নেমেছে। যদিও পাখিদের প্রজাতির রকমফের অনেকটাই কম। তবু এবার এত পাখি আসায় খুশির হাওয়া সাঁতরাগাছিতে।

নানা কারণে সাঁতরাগাছি ঝিলে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমেছে বিগত কয়েক বছর ধরে। এবার শীতের শুরুতেও প্রায় শূন্য ছিল ঝিল। জাঁকিয়ে শীত পড়তেই হাজির শীতের অতিথিরা। প্রতি বছরের মতো এবারও ঝিলে পাখি গোনার কাজ চলছে। তাতেই জানা গেছে এ বছরে পাখিদের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি।

দেখুন ভিডিও।

প্রকৃতি সংসদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, গণনা অনুযায়ী এদিন প্রায় সাত হাজার পাখির মিলেছে। বিগত দু’বছরে পাখির সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজারের কাছাকাছি। সেই তুলনায় এবার পাখির সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। তবে চার-পাঁচ বছর আগেও যত রকম পাখি প্রজাতির দেখা মিলত, সেটা এবার তুলনায় অনেকটা কম। হিমালয় পেরিয়ে আসা পাখি প্রজাতির সংখ্যা এখন হাতেগোনা। দূষণ বেড়েছে, বসতি বেড়েছে, জলাশয় অগভীর হয়েছে। এইসব কারণে পাখিরা মুখ ফিরিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাধারণত অক্টোবর মাসের শেষ থেকেই আসতে শুরু করে পরিযায়ী পাখির দল। কখনও হিমালয় পেরিয়ে অথবা পাদদেশ অঞ্চল থেকে পাখিরা শীতের খাবারের খোঁজে সমতলের ঝিলে এসে ভিড় করে। এবছর দেরিতে শীত পড়ায় পরিযায়ী পাখিরাও একটু দেরিতে এসেছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। শুরুতে শীত জমেনি, তারপর ঠান্ডা একটু ভালভাবে পড়তেই দলে দলে পরিযায়ী পাখির মেলায় সেজে উঠেছে সাঁতরাগাছি ঝিল।

প্রকৃতি সংসদের পক্ষ থেকে শনিবার পাখি গণনার কাজ হয়। জানা গিয়েছে, এ বছরে মোট ৬৭৪২টি পরিযায়ী পাখি এসেছে। যাদের মধ্যে রয়েছে লেসার হুইসলিং বার্ড, গাডওয়াল এবং নর্দান পিন্টেল নামক তিনটি ট্রান্স হিমালয়ান প্রজাতি। এছাড়াও আরও এগারো প্রজাতির পাখি এসেছে। যাদের মধ্যে কমন মুরহেন, ব্রোঞ্জ জাকানা, পার্পেল হেরন, হোয়াইট ওয়াগটেল, লিটল কর্মরান্ট, গ্রেট ইন্ডিয়ান পনড হেরন এবং হোয়াইট থ্রোটেড কিংফিশার এবং অন্যান্য পাখিরাও নজর কাড়ছে।

জানা গিয়েছে, গত দু-তিন বছর ধরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে কচুরিপানা অপসারণের চেষ্টা চলছে। কিন্তু কচুরিপানা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি। ফলে ঝিলটিকে পুরোপুরি পানামুক্ত করা যাচ্ছে না। এখন পরিযায়ী পাখি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন পাখিপ্রেমিকরা। কেউ বাইনোকুলার দিয়ে পাখি দেখছেন আবার কেউ কেউ ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দি করছেন পাখিদের রূপ-রং-বিভঙ্গ। এখনকার সাঁতরাগাছি দেখলে মনে হবে, এত প্রাণ কোথায় যে ছিল! সবই যে সঙ্গে নিয়ে এসেছে শীতপাখির দল।

You might also like