Latest News

সুন্দরবনের গ্রামে চাষের কাজে কদর মেয়েদের, মজুরির বেলায় বৈষম্য! দেখুন ভিডিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ঘরের কাজ সেরে মাঠের কাজও তাঁরা সমানতালে করে চলেন। চাষের মরসুমে দিনভর খাটেন, যাতে দুটো পয়সা আসে হাতে। যাতে খানিক আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য আসে জীবনে। তাঁদের হাতের কাজ পরিষ্কার। কিন্তু কাজের কদর থাকলে কী হবে, শ্রমের দাম তাঁরা পান না তেমন। একই কাজ করে পুরুষরা যা পারিশ্রমিক পান, মেয়েরা পান তার তিনভাগের দুভাগ মাত্র। অথচ তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁদের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের গ্রামে এমন বৈষম্য সত্ত্বেও মাঠে মাঠে দেখা মিলবে কৃষিশ্রমিক মহিলাদের।

কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের আর্থিক বৈষম্য সম্পর্কে কমবেশি সকলেই জানেন। চাষের মাঠেও সেই বৈষম্য সহজে ধরা পড়েছে। সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের উত্তর চুনাখালি গ্রামের দিঘির পাড়ার কৃষিকাজ করা মেয়েরা যেমন। এখন প্রতিদিনই সেখানে চলছে নতুন ধান রোয়ার কাজ। এলাকার বিভিন্ন চাষের খেত ঘুরে দেখলে দেখা মিলবে কর্মরত মহিলাদের। তাঁদের মধ্যে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মহিলাদের আধিক্য রয়েছে। রুটিরুজির টানে প্রায় সব ঘরের মহিলারাই এখন চাষের কাজে লেগেছেন। একই কাজ করে পুরুষের সমান মজুরি পাচ্ছেন না জেনেও তাঁরা চাষের জমিতে নেমে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।

দেখুন ভিডিও।

এমনই এক মহিলা কৃষিশ্রমিক রমণী সর্দার। তিনি জানান, তাঁরা মেয়েরা চাষের মরশুমে কাজ করেন। বাড়ির ‘বেটাছেলে’-রা মাটি কাটার কাজ করেন। তাও সবসময় কাজ হয় না। অগত্যা এই চাষের সময়ে দু’পয়সা রোজগারের সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চান না। জানা গিয়েছে, খুব কম মজুরি মিললেও যা পাওয়া যায় তাই হাসিমুখে নিতে হয় মহিলাদের। আসলে করোনা মহামারীর কারণে এমনিতেই মানুষের জীবন-জীবিকা সংকটে। গ্রামাঞ্চলের পুরুষদের অনেকেই কাজ হারিয়েছেন। অনেকে কাজ খুঁজতে গিয়েছেন ভিনরাজ্যেও। তাঁদের নিজেদের জমিজিরেতও নেই যে নিজেরা সেই জমিতে চাষাবাদ করবেন।

এই আবহে সস্তার নারী শ্রমিকদেরই কাজে লাগাচ্ছেন কৃষিজমির মালিকরা। উত্তর চুনাখালি গ্রামের দিঘির পাড়ার বাসিন্দা স্বপন সর্দার জানাচ্ছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইয়াসের তাণ্ডবে বর্ষায় এবছর কোনও চাষই হয়নি এলাকায়। এখানে খুব বেশি চাষ হয় না। যা চাষের কাজ হয় তা মেয়েদের দিয়েই করানো হয়। তাঁদের কাজও পরিষ্কার আর রোজের দামটাও কম। ছেলেদের রোজের দাম যেখানে ৩০০ টাকা, সেখানে মেয়েদের মাত্র ২০০ টাকা দিলেই চলে। কম পয়সায় পাওয়া যায় বলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েদের দিয়ে চাষের কাজ করানো হয়। তাতে চাষের খরচও কিছুটা বাঁচে। কিন্তু তাতে বাংলার গ্রামীণ হতদরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

You might also like