Latest News

উচ্ছে-বেগুন-পটল-মুলো এখনও অগ্নিমূল্য! বছর শেষে দাম চড়ল সাধারণ চালেরও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর কয়েক ঘণ্টা পর বিদায় নেবে ২০২১। ২২-কে স্বাগত জানাতে উৎসবের আবহ সর্বত্র। তারই মধ্যে হাটে-বাজারে অন্য ছবি।

শীতের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও শাক-সবজির দামে এখনও তার রেশ নেই এ বছর। সবজি কিনতে হচ্ছে রীতিমতো দরদাম করে, যতটুকু না নিলেই নয়, সেই হিসাব মাথায় রেখে। ব্যাগ বোঝাই বাজার এ বছর এখনও দিবাস্বপ্ন বেশিরভাগ গৃহস্থের কাছে।

 

কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় অর্ধেক সবজির সেঞ্চুরি হাঁকানো নতুন খবর নয়। ডাল-তেল-নুন-মশলার দামও বিগত কয়েক মাস যাবৎ ঊর্ধ্বগামী। ২০২১ বিদায় নেওয়ার মুখে সাধারণ গৃহস্থের চিন্তা বাড়িয়েছে একেবারে সাধারণ চালের দাম কেজিতে একলাফে আট-ন’টাকা বৃদ্ধি। সবজির মতো চালের দামেও অকাল বৃষ্টিকেই দায়ী করছেন চাষি থেকে কৃষিমন্ত্রী সকলেই।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের সবজি বাজারগুলিতে বেগুন, করলার দাম ছিল কোথাও আশি, কোথাও একশো টাকা কেজি। ছোট মাপের ফুল কপি, গত বছরও যেগুলি এই সময় পাঁচ-ছ’টাকা পিস দামে ঢেলে বিক্রি হয়েছে, এবার এখনও পনেরো-কুড়ি টাকা। বাঁধাকপিও পনেরো-কুড়ি টাকা কিলোর নিচে নামেনি। অন্যান্যবার ডিসেম্বরের শেষে যা পাঁচ-দশ টাকায় নেমে আসে। পেঁয়াজ কলি এখনও আশিতে দাঁড়িয়ে। ছোট সাইজের লাউ পঞ্চাশ টাকা। সাধারণ কুমড়ো তিরিশ-চল্লিশ টাকা কেজি। স্বস্তি শুধু আলু-পেঁয়াজের দামে। নতুন আল কুড়ি টাকা কিলো। বিগত কয়েক বছরের মতো মাছের দামও আছে নাগালের মধ্যে।

 

পেট্রলের দাম চড়ার সময় একলাফে সরষের তেল দুশো টাকা কেজি হয়ে যায়। জ্বালানির দাম কমলেও ভোজ্য তেলের দাম নামেনি। দাম কমেনি মশলারও। বছর শেষে চিন্তা বাড়িয়ে চালের দাম। একেবারে সাধারণ মানের যে চাল মাস তিনেক আগেও ৩৬-৩৭ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, সপ্তাহ তিনেকের মধ্যে তা বেড়ে হয়েছে ৪৫ টাকা। অন্যান্য চালের দামও কেজিতে চার-পাঁচ টাকা করে বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, একলাফে এতটা বৃদ্ধি সচরাচর হয় না। গোটা বছরে বড়জোর এক-দেড় টাকা বাড়ে কেজিতে।

সবজি এবং চালের দামে অকাল বৃষ্টির প্রভাবই বেশি বলছেন দোকানিরা। দিন কয়েক আগে নিম্নচাপের বৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়। সব ধরনের সবজিই নতুন করে চাষ শুরু করতে হয়। কিন্তু তাতেও হাল ফেরেনি। জানুয়ারির মাঝামাঝি অবস্থা ফিরতে পারে, আশাবাদী চাষিরা।

 

কিন্তু চালের দাম কমার আশা নেই বললেই চলে। অকালের বৃষ্টিতে মাঠে থাকা ধানের পুরোটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অনেকে ধান কাটার পর বাড়ি নিয়ে তোলার সময় পাননি। কাটা ধানও মাঠে পচে গিয়েছে তাদের। অসমের বৃষ্টিতে ধানের ক্ষতির কথা মানছেন কৃষিমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ক্ষতি সর্বত্র সমান নয়। দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় ভালোই ক্ষতি হয়েছে। তবে এর ফলে চালের সংকট হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। দোকানিরা বলছেন, ধান নষ্ট হওয়ায় চাল কলে জোগান কম। সেই কারণে বাজারে কম দামি চালের দাম চড়া।

You might also like