Latest News

‘বক্সী দা’ একা হয়ে গেলেন! নতুন তৃণমূলের সূচনা?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় তৃণমূল (TMC) ক্ষমতা দখলের সময়ের কথা। দিদির পর তৃণমূলের সাংগঠনিক ক্ষমতার বৃত্তে তিনটি মানুষকে মুখ্যত দেখা যেত। লোকে বলত, থ্রি মাস্কেটিয়ার্স। মুকুল রায়, সুব্রত বক্সী (Subrata Bakshi) ও পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। দিদির বহু পুরনো সৈনিক এঁরা। এঁদের উপরই সবচেয়ে ভরসা করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে যে ছবি দেখা গেল, তাতে স্পষ্ট তৃণমূলে ক্ষমতা বিন্যাসের সেই ছবিটা এখন নিতান্তই অতীত। মুকুল রায় বিজেপিতে গিয়ে ফিরে এলেও অসুস্থ। তিনি থেকেও না থাকার মতো। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দুর্নীতি কাণ্ডে সাসপেন্ড করল দল। মমতার পর পরই তৃণমূলের যে প্রজন্ম এতদিন সক্রিয় বা আলঙ্কারিক ভাবে সংগঠনের উপরের সারিতে বসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে পড়ে রইলেন শুধু সুব্রত বক্সী (Subrata Bakshi)। যিনি রাজ্য সভাপতি পদে রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু অনেকেরই কৌতূহল কেন রয়ে গিয়েছেন সেটাই স্পষ্ট নয়।

কিছুদিন আগে দ্য ওয়ালকে মুকুল রায় বলেছিলেন, আমার অবস্থা এখন জমিহীন জমিদারের মতো। অনেকের মতে, বৃহস্পতিবারের ছবিতে পরিষ্কার সুব্রত বক্সীর অবস্থাও সে ভিন্ন নয়। বরং প্রবীণদের ক্রমশই পথ প্রদর্শকের পথে ঠেলে দিয়ে মাথা তুলছে, নতুন এক তৃণমূল। যে তৃণমূলের (TMC) কারও বয়স ৬০ পেরোয়নি।

তা কী রকম?
পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে যে দল ও সরকারের সমস্ত পদ থেকে বরখাস্ত করতে হবে তা নিয়ে এদিন সকালে প্রথম দাবি জানিয়েছিলেন সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তার পর পরই যুব তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ফোঁড়া এবার ফাটিয়ে দিতে হবে।

অর্পিতার লুকনো টাকা দলের নয়, সাফ কথা অভিষেকের

পর্যবেক্ষকরা তখনই আন্দাজ করছিলেন, কিছু একটা চিত্রনাট্য তৈরিই হয়ে আছে। ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই সেই রহস্য আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ, তৃণমূলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির বৈঠক ডেকে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান হলেন সুব্রত বক্সী (Subrata Bakshi)। কিন্তু কুণাল টুইটারে পোস্ট করে জানান, অভিষেক বৈঠক ডেকেছেন। তার পর সন্ধেয় তৃণমূল ভবনে দেখা যায়, সুব্রত বক্সী ও ফিরহাদ হাকিমকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করছেন অভিষেক। তিনিই সব প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন। সুব্রত বক্সী ও ফিরহাদ হাকিম আলঙ্কারিক ভাবে বসে রয়েছেন পাশে।
তৃণমূলের একটি সূত্রের মতে, এই ছবিটা প্রতীকী বললেও কম বলা হবে। এটাই বাস্তব। তৃণমূলের সাংগঠনিক ক্ষমতার রাশ এখন দিদির পর অভিষেকেরই হাতে। যে কথা ২১ জুলাই দ্য ওয়ালে পরিষ্কার ভাবেই লেখা হয়েছিল। অর্থাৎ এ যেন এক নতুন তৃণমূলের জন্ম হচ্ছে। সেই সঙ্গে একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ধারণা তৈরিরও চেষ্টা শুরু হয়েছে এই তৃণমূলের নেতার তরফে।

বৃহস্পতিবার সেই নেতা, তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তবে কি নতুন তৃণমূলের জন্ম হচ্ছে? জবাবে অভিষেক বলেছেন, সে তো মানুষই ঠিক করবে।

You might also like