Latest News

এক চোখে নীল, এক চোখে বেগুনি! রঙিন হতে চেয়ে ট্যাটু করিয়েছিলেন তরুণী, শেষমেশ কী হল তাঁর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্যরকম লুক পাওয়ার জন্য শরীরের বিভিন্ন অংশে ট্যাটু করানোর শখ থাকে অনেকেরই। তবে চোখের ভিতর ট্যাটু (eyeball tattoo)? শুনলে আঁতকে উঠবেন অনেক ট্যাটুপ্রেমীও। তবে সম্প্রতি এই আজব শখের মাশুল দিতে হয়েছে এক মহিলাকে। দুটি চোখের মণিতে নীল এবং বেগুনি রঙের ট্যাটু করিয়েছিলেন তিনি। ফলস্বরূপ, এখন প্রায় অন্ধ (blind) হয়ে যেতে বসেছেন ওই মহিলা।

অস্ট্রেলিয়ার মডেল অ্যাম্বার লিউককে দেখে চোখে ট্যাটু করানোর শখ হয়েছিল উত্তর আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সি আনায়া পিটার্সনের (Anaya Peterson)। মেয়েদের বারণ না শুনেই প্রাথমিকভাবে ডান চোখের ভিতর নীল রঙের ট্যাটু করিয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন, সমস্যা হলেও তা শুধুমাত্র একটি চোখেই হবে। অন্য চোখ দিয়ে তারপরেও দেখতে পাবেন। সেই মতোই, ২০২০ সালে ডান চোখে ট্যাটু করেন আনায়া।

বেশ কয়েক মাস কেটে যাওয়ার পরেও ড্রাই আই এবং হালকা মাথাব্যথা ছাড়া চোখে কোনও সমস্যা হয়নি তাঁর। সেই দেখেই সাহস পান পিটার্সন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বাঁ-চোখেও বেগুনি রঙের ট্যাটু করেন তিনি। সমস্যা শুরু হয় তার পর। ২০২১ সালের অগস্ট মাসে হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে হতভম্ব হয়ে যান পিটার্সন। তাঁর ভাষায়, ‘মনে হচ্ছিল আমি যেন মাইক টাইসনের সঙ্গে পাঁচ রাউন্ড বক্সিং করে এসেছি।’ এতটাই ফুলে গিয়েছিল তাঁর চোখগুলি, যে ঠিকভাবে তাকাতেও পারছিলেন না তিনি।

বাধ্য হয়ে হাসপাতালের দ্বারস্থ হন আনায়া। তাঁকে ভাল করে পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, চোখে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে গেছে তাঁর। ভবিষ্যতে আর কখনওই স্বাভাবিকভাবে দেখতে পাবেন না তিনি।

‘আমি এখন কিছুটা দূর থেকে কারও মুখ স্পষ্টভাবে দেখতে পাই না। এটা কতটা যন্ত্রণার তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না,’ জানিয়েছেন আনায়া।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর চেহারা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য শোনার পরেও ভেঙে পড়েননি আনায়া। ‘আমি সবসময়ই আমার মেয়েদের বলি মানুষের মন্তব্য নিয়ে মাথা না ঘামাতে, কারণ তারাও খুবই সাধারণ মানুষ। পজিটিভ, নেগেটিভ, সব রকম মন্তব্যই আসবে। কিন্তু দিনের শেষে পজিটিভ মন্তব্যকে ছাপিয়ে যাবে নেগেটিভ কথা,’ দাবি পিটার্সনের।

আনায়ার শরীর জুড়ে অজস্র ট্যাটু রয়েছে। জিভেও অস্ত্রোপচার করে তা মাঝখান থেকে দু’ভাগ করিয়েছিলেন আনায়া। প্রসঙ্গত, যে অস্ট্রেলিয়ান মডেলকে দেখে চোখে ট্যাটু করিয়েছিলেন আনায়া, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন তিনিও। যদিও চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। তবে তাঁর আগের দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন আনায়া। তিনি এও জানিয়েছেন, সঠিকভাবে করতে পারলে চোখে ট্যাটু করানোর ফলে অন্ধ হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে না। এক্ষেত্রে নিজের ট্যাটু আর্টিস্টকেই দোষ দিয়েছেন আনায়া।

‘আমাকে সবাই মমতার ভাইপো ভাবে!’ অভিনেতা নাকি নেতা, গুলিয়ে যাচ্ছে পুরোটাই

You might also like