Latest News

পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর লক্ষাধিক টাকার ভাড়া এখনও বাকি, প্রশাসনের দুয়ারে ঘুরে হতাশ বাস মালিকরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা: গত বছর পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর দায়িত্ব দিয়েছিল সরকার। সেই দায়িত্ব সততার সঙ্গেই পালন করেছিলেন তারা। উল্টে সরকারের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ যাতাযাতের খরচ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এক বছর কেটে গেলেও প্রশাসনের কাছে লক্ষাধিকা টাকার সরকারি বকেয়া বিল আজও আটকে আছে রাজ্যের বেসরকারি বাস মালিকদের। প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেও কোনও সদুত্তর পাননি তাঁরা।

গত বছর পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর জন্য উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন মিনিবাস ভাড়া নিয়ে ছিল। কিন্তু মালিকদের ভাড়া বাবদ লক্ষাধিক টাকা এখনও বকেয়া পড়ে রয়েছে। অথচ এই ব্যাপারে জেলা প্রশাসন একেবারে নিশ্চুপ। আঞ্চলিক পরিবহন দফতর থেকে জেলা স্বাস্থ্য দফতর, কোথাও গিয়েও মিলছে না পরিবহন বিল সংক্রান্ত সদুত্তর।

তাই এবার প্রশাসনে বিরুদ্ধে সরব রায়গঞ্জের বাস-মিনিবাস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। যদিও আরটিও জানিয়েছেন, জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে সমস্ত বিষয় জানানো হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে বাস মালিকেরা তাদের পাওনা পেয়ে যাবেন বলেই দাবি করেছে প্রশাসন।

বাস মালিক সংগঠনের দাবি, ২০২০ সালে প্রথম লকডাউনে ২৮ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৫৫ টা বাস এবং পয়লা মে থেকে তারিখ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ৭০ টি বাস ভাড়া নিয়েছিল জেলা প্রশাসন। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজেদের গ্রামে ফিরিয়ে দিতেই বাসগুলো ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা শুধুমাত্র রায়গঞ্জ মহকুমার বাস মালিকদেরই বকেয়া রয়েছে।

অপরদিকে, ইসলামপুর মহকুমার একই কারণে ব্যবহৃত গাড়িগুলির বকেয়া বিল প্রশাসন অনেক আগেই মিটিয়ে দিয়েছে বলে সংগঠনের দাবি।

গত বছর উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন আঞ্চলিক পরিবহন দফতরের মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিকদের জেলায় ফেরানো ও শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন থেকে নামার পর পরিযায়ী শ্রমিকদের গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য বাসগুলি অধিগ্রহণ করে। কিন্তু সে সময় তাদের ডিজেল খরচ ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়।

বাস মালিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্লাবন প্রামাণিক জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু মাত্র গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল দেওয়া হবে। এদিকে করোনা সংক্রমণের ভয়ে গাড়ির কর্মীরা প্রথম অবস্থায় কাজে যোগদান করতে চাননি। ফলে অনেক বেশি পারিশ্রমিক দিতে হয়েছে তাদের। মালিকেরা নিজের পকেট থেকে দিয়েছিলেন ওই পারিশ্রমিক। সেই সময় গাড়ি পরিষেবা প্রদান করা হয়। কিন্তু লক ডাউন পরবর্তীতে বার বার জেলা প্রশাসনের কাছে সেই টাকা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা সত্ত্বেও কেউ তাতে আমল দেওয়া হয়নি।

আঞ্চলিক পরিবহন আধিকারিকের মাধ্যমে গাড়িগুলি অধিগ্রহণ করার কারণে, আঞ্চলিক পরিবহন আধিকারিকের কাছে টাকা চাইলে, প্রথমে জানানো হয়, গাড়ি ভাড়া জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য দফতরের অফিস থেকে দেওয়া হবে। সেখানেও স্বাস্থ্য দফতর কোনও কর্ণপাত করছে না বলে অভিযোগ।

অথচ, ইসলামপুর মহকুমায় এই একই কারণে অধিগ্রহণ করা গাড়িগুলির ভাড়া অনেকদিন আগেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আপাতত ৪৫ দিন বাস বন্ধ। আগামীতে কবে চালু হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এমন অবস্থায় তীব্র আর্থিক ক্ষতির মুখে এই বকেয়া বিল না পেয়ে ক্ষুব্ধ বাস মালিকেরাও। দ্রুত এই বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে আঞ্চলিক পরিবহন দফতরের আধিকারিক সুরজ কুমার দাস জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতেই বিল তৈরি করে জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে দেওয়া হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকেই বিল পাবেন অধিগৃহীত বাস মালিকেরা। উচ্চ পদস্থ কর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি।এদিকে তবে এবিষয়ে মুখ খুলতে চাননি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।

এখন এমন অবস্থায় জেলা স্বাস্থ্য দফতর ও জেলা প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

You might also like