Latest News

নেতাজি-১২৫, মোদীর ভাবনায় নেই ২৩ জানুয়ারি জাতীয় ছুটি, লালকেল্লার নাম আইএনএ ফোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি বাদল অধিবেশনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছিলেন হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। সে ব্যাপারে সংসদেই জবাব দিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। তবে কেন্দ্র যা জানিয়েছে, তাতে কোথাও বাম, তৃণমূলের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর মান্যতা দেওয়া হয়নি।

লকেটের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, ভারত সরকার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তাঁর মধ্যে রয়েছে লালকেল্লায় এবং কলকাতার কাছে নীলগঞ্জে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (আইএনএ)-র শহীদদের একটি স্মৃতিসৌধ প্রতিষ্ঠা, নেতাজি এবং আইএনএ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ভিডিও, ও একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ। তা ছাড়া কর্নেল ধিলো বং জেনারেল শাহনওয়াজ খানের জীবনীও প্রকাশ করবে কেন্দ্রীয় সরকার।

লকেটের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, আইএনএ-র ছবিগুলি একটি সচিত্র বই আকারে প্রকাশ করা হবে। শিশু মনে নেতাজির জীবন যাতে রেখাপাত ঘটায় তাঁর জন্য শিশু-বান্ধব কমিকস প্রকাশ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার এও বলেছে, নেতাজি এবং আইএনএ-এর সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলিও উদযাপন করা হচ্ছে। যেমন, ১৪ এপ্রিল মৌরাং ডে, আইএনএ প্রতিষ্ঠা দিবস ২১ অক্টোবর, আন্দামানে নেতাজির যাওয়া এবং তেরঙা পতাকা উত্তোলনের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর, ইম্ফলে আইনএ-এর বিজয় দিবস ইত্যাদি প্রভৃতি।

নেতাজির তৈরি রাজনৈতিক দল ফরওয়ার্ড ব্লক-সহ সমস্ত বাম দলগুলির দাবি, ২৩ জানুয়ারিকে দেশপ্রেম দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, ২৩ জানুয়ারিকে জাতীয় সংহটি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করুক দিল্লি। আর একটি বাম দল দাবি করেছিল, লালকেল্লার নাম হোক আইএনএ ফোর্ট।

কিন্তু সংসদে লকেটের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্র যে যে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে, তাতে ২৩ জানুয়ারি জাতীয় ছুটি, লালকেল্লার নাম নেতাজির নামে হওয়া ইত্যাদি কিছুই মানা হয়নি।

২০২১ সালে ২৩ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের নেতাজি জয়ন্তী পর্যন্ত সুভাষ বসুর ১২৫ তম জন্ম বর্ষ উদযাপনের কর্মসূচি নিয়েছে কেন্দ্র। এ বছর ২৩ জানুয়ারি যার শুরুটা হয়েছিল কলকাতা থেকেই। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে জাঁকজমক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচিতে নেতাজি ভবন না থাকায় প্রশ্ন উঠেছিল। তারপর দেখা যায় দিনের দিন তা পরিবর্তন করা হয়। এবং এলগিন রোডে নেতাজি ভবনে যান প্রধানমন্ত্রী।

নেতাজির ১২৫ বছর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রথমে কেন্দ্রীয় সরকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে কমিটি গড়েছিল। রাজ্য সরকারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে নেতাজি জয়ন্তী উদযাপনের জন্য পৃথক কমিটি গড়ে। তারপর দেখা যায় কেন্দ্র নেতাজির ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের জন্য কমিটির মাথায় অমিত শাহকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে আসে।

অনেকের মতে, বাংলার ভোটের আগে তখন নেতাজি আবেগকে পুঁজি করার উদ্দেশ্য ছিল। কেন্দ্র, রাজ্য দেখাতে চেষ্টা করেছিল, কারা বেশি নেতাজিকে সম্মান জানাচ্ছে। কিন্তু ভোট মিটে যাওয়ার পর দেখা গেল জাতীয় ছুটি, দেশপ্রেম বা জাতীয় সংহটি দিবস পালনের মতো দীর্ঘদনের দাবিগুলিকে মান্যতা দিল না দিল্লি।
সমালোচকদের বক্তব্য, যে ভাবে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের নামে স্টেশন, দিল্লির একটি জনপদের নামকরণ করা হয়েছে সেই অর্থে নেতাজিকে সেই উচ্চতায় তুলে ধরল না নরেন্দ্র মোদী সরকার।

You might also like