Latest News

ক্যানিংয়ে তিন বন্ধুর রক্তদান, জীবনের আলো দেখল থ্যালাসেমিক কিশোরী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত কিশোরীর জীবন দূত হয়ে দেখা দিল তিন বন্ধু! প্রাণ বাঁচল ১২ বছরের রেশমা সরদারের।

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত মেয়ের জন্য রক্ত না পেয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন সাহানারা সরদার। ক্যানিং হাসপাতালে বসে তিনি চোখের জল ফেলছিলেন। ব্যাপারটি নজরে পড়ে শিবসুন্দর বৈরাগী, সুশান্ত সরদার, রুপম সর্দারদের।

শিবসুন্দরের পিসি সুষমা মণ্ডল শারীরিক জটিলতার কারণে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অস্ত্রোপচারের আগে তাঁর রক্তের প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই ওই তিন বন্ধু মিলে হাসপাতালে এসেছিল। পিসির জন্য শিবসুন্দর ও রূপম রক্ত দিয়ে বেরোনোর সময় সাহানারা সরদার নামে ওই বধুকে কাঁদতে দেখে। এরপরই তাঁরা ঠিক করেন রক্ত দিয়ে কিশোরী রেশমার জীবন বাঁচাবেন।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। তখন‌ও রক্ত দিতে বাকি থাকায় সুশান্ত ওই কিশোরীর জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত দেয়। জীবনে প্রথমবার রক্ত দিয়ে এক কিশোরীর জীবন রক্ষা করতে পারায় খুশি ওই তরুণ‌ও। পিসির জন্য রক্ত দিতে এসে অসহায় রেশমার পাশে দাঁড়াতে পারায় খুশি শিবসুন্দর বৈরাগী।

মাত্র দু’বছরে বয়সে রেশমার থালাসেমিয়া ধরা পড়ে। সেই থেকে প্রতি মাসে দু’বার করে তাকে রক্ত দিতে হয়। এতদিন ওই কিশোরীর রক্তের যোগান নিয়ে কোনও সমস্যা না দেখা দিলেও, চলতি মাসেই হঠাৎই সমস্যা তৈরি হয়। কারণ ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের ভাঁড়ার পুরো শূন্য হয়ে গিয়েছে!

হাসপাতালে রক্ত না পেয়ে বিভিন্ন সংগঠনের দোরে দোরে ঘুরেও তিনি মেয়ের জন্য এক ইউনিট রক্ত‌ও যোগাড় করতে পারেননি। রক্ত না পেলে কি হবে এই আশঙ্কাতেই ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত রক্তের সমস্যা মেটায় খুশি ওই বধূ।
বাইট সাহানারা সরদার, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তের মা

তিন বন্ধুর এই অনন্য মানবিকতার খবর ক্যানিংয়ের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি তাঁদের বাড়ি যেখানে, সেই বাসন্তীর চুনাখালিতেও সকলে প্রশংসা করছেন শিবসুন্দর, সুশান্ত, রূপমদের!

You might also like