Latest News

তিস্তার গ্রেফতারিতে চুপ কংগ্রেস, সনিয়া-রাহুলদের তীব্র আক্রমণ বিজয়নের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমাজকর্মী তিস্তা সেতলাবাদকে (Teesta Setalvad arrested)গুজরাত পুলিশের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে পথে নেমেছে সিপিএম। কেরল, বাংলা ও ত্রিপুরায় পথে নেমে প্রতিবাদ করেছে তারা। কিন্তু এখনও দেশের প্রধান বিরোধী দল বলে স্বীকৃত কংগ্রেস একটি শব্দ উচ্চারণ করেনি। সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীদের পার্টির এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলল সিপিএম। এই ব্যাপারে তারা কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে এগিয়ে দিয়েছে, যাঁর রাজ্যে কংগ্রেস হল সিপিএমের প্রধান প্রতিপক্ষ এবং নানা কারণে দু দলের এখন সাপে-নেউলে সম্পর্ক।

সমাজকর্মী কর্মী তিস্তা সেতলাবাদ (Teesta Setalvad arrested) এবং গুজরাত পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ডিজি আরবি শ্রীকুমারের গ্রেপ্তারের পরে কংগ্রেস চুপ করে আছে বলে পিনারাইয়ের অভিযোগ।

কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কংগ্রেস অন্ততপক্ষে নামমাত্র প্রতিবাদ করতে পারত। কোন বড় মাপের প্রতিবাদের প্রয়োজন নেই। কেন তারা কিছু বলছে না!

জরুরি অবস্থার ৪৭ তম বর্ষ পূর্তির দিনে শ্রীকুমার এবং সেতলাবাদকে গুজরাত পুলিশ গ্রেফতার করে। এই গ্রেফতারিগুলিকে দেশব্যাপী বিজেপি-বিরোধী দলগুলিকে ভয় দেখানোর প্রচেষ্টা হিসাবে দেখা উচিত ছিল কংগ্রেসের, মনে করেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী। অথচ সঙ্ঘ পরিবারের হুঁশিয়ারির জবাবে কংগ্রেস নীরব। বিজেপির ভয়ে কংগ্রেস হাঁটু গেড়ে বসে আছে।

কেরলে কংগ্রেসের সহযোগী দল হল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন অফ মুসলিম লিগ। তাদেরকে পিনারাইয়ের পরামর্শ, যে সব দল কংগ্রেসকে সমর্থন করে, যেমন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ, তাদের উচিত এই ব্যাপারে কংগ্রেসকে কিছু বলা।

তিস্তাকে ২৫ জুন তাঁর মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করা হয়। আগের দিন ২০০২ এর গুজরাত দাঙ্গায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকা নিয়ে হওয়া মামলার চূড়ান্ত রায়ে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ক্লিনচিট দেয়। সেই সঙ্গে আদালত ওই মামলায় এনজিও – র ভূমিকা খতিয়ে দেখার কথা বলে, যারা নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল। তাতে তিস্তা সেতলাবাদের এনজিও আছে।

জ্বালানির জন্য হাহাকার, দু’সপ্তাহ পেট্রল-ডিজেল বিক্রি বন্ধ হল শ্রীলঙ্কায়

পিনারাইয়ের বক্তব্য, তিস্তাদের বিরুদ্ধে ২৫ জুনই এফআইআর করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই ঘটনাকে সামনে রেখে সিপিএম আসলে দেখাতে চাইছে, কংগ্রেস মোটেই বিজেপির বিরুদ্ধে জোরালো বিরোধিতার পথে হাঁটতে নারাজ। প্রসঙ্গত, অনেক দিন যাবৎ এই অভিযোগ করে আসছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

তবে কংগ্রেস যে গুজরাত দাঙ্গার বিষয়ে আর অনগ্রসর হতে চায় না সেই ইঙ্গিত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন দলের প্রবীণ আইনজীবী নেতা অভিষেক মনু সিংভি। সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, এটা যুক্তিযুক্ত যে রাজনৈতিক দল হিসাবে কংগ্রেস এমন কোনও মামলার যোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য করতে পারে না যার সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা আশা করি এবং বিশ্বাস করি যে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া সাবধানতার সাথে অনুসরণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে সেই সময়, নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো আক্রমণ শানিয়েছিলেন সনিয়া গাঁধীই। তিনি মোদীকে মৌত কি সওদাগর বলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। সেই সনিয়া ও তাঁর দল আজ নীরব কেন সেই প্রশ্নই তুলেছে বিজেপি বিরোধী অবস্থানে কংগ্রেসে রাজনৈতিক সঙ্গী সিপিএম।

সুপ্রিম কোর্ট যে মামলায় নরেন্দ্র মোদীকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে সেটির মূল বিষয় ছিল দাঙ্গায় কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ আহসান জাফরির মৃত্যু। তাঁর স্ত্রী সেই থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছেন।

কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, সনিয়া গাঁধীর দল কি একবারের জন্যও ওই মামলায় আইনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে?

You might also like