Latest News

টাটাদের সঙ্গে কোনওদিনই শত্রুতা ছিল না, রাজ্যে বিনিয়োগে তারা স্বাগত, বললেন পার্থ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিঙ্গুর থেকে টাটাদের ন্যানো প্রকল্প সরকারি ভাবে বিদায় নিয়েছে ১৩ বছর আগে, ২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর। ২০১১ সালে সিঙ্গুর জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের ফসল হিসাবে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে পালাবদল ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। ২০২১ এ তৃতীয় দফায় সরকার গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবার কর্মসংস্থানই তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করে রাজ্যের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানালেন, পশ্চিমবঙ্গে বড় মাপের বিনিয়োগের জন্য টাটাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি আরও জানান, শিল্প সংস্থাকে ইনসেনটিভের পরিমাণ নির্ভর করবে কর্মসংস্থানের ক্ষমতার ভিত্তিতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার চায়, যত তাড়াতাড়ি যে কোনও বড় শিল্প সংস্থা রাজ্যে দুটি বড় ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট স্থাপন করুক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাটাদের সঙ্গে আমাদের কখনও কোনও শত্রুতা ছিল না বা আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াইও করিনি। তারা দেশে, বিদেশেও সবচেয়ে বড়, সর্বোচ্চ সম্মান পাওয়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির একটি। সিঙ্গুর কাণ্ডের জন্য টাটাদের দোষ দেওয়া যায় না। সমস্যা ছিল বাম সরকার ও তাদের জোর করে জমি অধিগ্রহণের নীতি। টাটা গোষ্ঠী সবসময়ই বাংলায় বিনিয়োগের জন্য স্বাগত।

তিনি জানান, নুন থেকে ইস্পাত ব্যবসায় যুক্ত টাটারা কলকাতায় আরেকটি টাটা সেন্টার গড়ে তোলায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার টাটাদের কাছে পৌঁছতে অতিরিক্ত উদ্যোগ নেবে কিনা, জানতে চাওয়া হলে শীর্ষ তৃণমূল নেতা জানান, বিনিয়োগ আনার ব্যাপারে তিনি ইতিমধ্যেই টাটা গোষ্ঠীর কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

২০০৬ সালে টাটারা ন্যানো গাড়ি প্রকল্প চালু করে। তত্কালীন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাম সরকার জাতীয় সড়ক ২ এর কাছে ৯৯৭.১১ একর জমি অধিগ্রহণ করে টাটাদের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু তৃণমূল নেত্রী মমতা এর প্রতিবাদে ২৬ দিনের অনশন কর্মসূচিতে বসেন। তাঁর দাবি ছিল, ‘জোর করে কেড়ে নেওয়া’ ৩৪৭ একর কৃষিজমি অনিচ্ছুক চাষিদের ফেরত দিতে হবে। এ নিয়ে তৃণমূল ও বাম সরকারের মধ্যে বহুবার আলোচনা সত্ত্বেও কোনও সমাধানসূত্র বেরয়নি। ২০০৮ সালে টাটারা প্রকল্প গুটিয়ে গুজরাতের সানন্দে চলে যায়। ২০১৬য় অধিগৃহীত জমি ফেরত দেয় পালাবদলের পর ক্ষমতায় আসা তৃণমূল।

You might also like