Latest News

‘বন্ধু’ সুব্রত মুখোপাধ্যায় জেল হাজতে, রাজ্যপাল ও সিবিআইয়ের অতি সক্রিয়তার নিন্দায় জয়রাম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রে যখন তিনি গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী, বাংলায় তখন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের ভার সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের উপর। সোমবার রাতে সেই সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে জেল হাজতে পাঠানোর পর ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী জয়রাম রমেশ।

টুইট করে জয়রাম বললেন, “বিজেপির ডাহা পরাজয়ের পর বাংলায় এখন যা হচ্ছে তা হল এক কথায় জনমতের উপর অত্যাচার। রাজ্যপালের ভূমিকা অসাংবিধানিক। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তাঁদের হার হজম করতে পারছেন না। কঠোরতম শব্দে এর নিন্দা করা উচিত।”

জয়রাম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায় একদা একই দলের সতীর্থ ছিলেন। সুব্রতবাবু তুলনায় অনেক প্রবীণ। ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনতেন। নাম ধরে ডাকতেন। জয়রামের উত্থান নরসিংহ রাও জমানায়। সাবেক দলের এই দুই নেতার বন্ধু সম্পর্কের যখন শুরু ততদিনে সুব্রতবাবু বাংলায় তৃণমূল সরকারের পঞ্চায়েত মন্ত্রী। বস্তুত সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়, সম্ভবত সেই বাংলার জন্য সেই শেষবার একটা মডেল তৈরি হয়েছিল।

এগারো সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম মেয়াদে রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে যে পাঁচ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছিল, তার যৌথ কারিগর ছিলেন আসলে দু’জনে। প্রশাসনের অনেকে বলেন, লক্ষ্ণীকান্ত-প্যারেলালের মতো ছিলেন যেন দু’জনে। গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে প্রবল আগ্রহ ছিল সুব্রতবাবুর, আর কেন্দ্রের অর্থ সাহায্যের পথ মসৃণ করে তাতে যোগ্য সঙ্গত করেছিলেন জয়রাম। শুধু ওই প্রকল্পই নয়, একশ দিনের কাজে বাংলা যে সব থেকে বেশি বরাদ্দ পায় তার ভিতও তৈরি হয়েছিল কৃষি ভবনে জয়রামের মেয়াদেই।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেও তা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। অনেকে বলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর সুব্রতবাবু এক প্রকার গোপনে জয়রামের সঙ্গে বন্ধু সম্পর্ক রেখে চলতেন। প্রশাসনিক সফরে জয়রাম কলকাতায় এলে তিনি স্যুইসোটেলে উঠতেন। আর তাঁর পাশের ঘরটাই ভাড়া নিয়ে রাখতেন সুব্রতবাবু। দু’জনে আড্ডা দিতেন সেখানে।

আবার গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পে কেন্দ্রের অর্থ বকেয়া হলে বা একশো দিনের বকেয়া টাকার অঙ্কটা একটু বড় হলে সুব্রতবাবু নিজে চলে যেতেন দিল্লিতে। কৃষি ভবনে জয়রামের ঘরে বসে সেই টাকা আদায় করে আনতেন বুঝিয়েসুঝিয়ে। স্বভাবগত ভাবে জয়রাম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায় দু’জনেই খুব মিশুকে। আড্ডা প্রিয়। কংগ্রেস রাজনীতির পুরনো ও বর্তমান ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ হাসি ঠাট্টা চলত তাঁদের মধ্যে।

সোমবারের ঘটনার নিন্দা করে জয়রামের মতোই টুইট করেছেন কংগ্রেসের আর এক প্রবীণ নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিও। তবে অনেকের মতে, অভিষেকের দায় রয়েছে। তৃণমূলের সমর্থনে তিনি বাংলা থেকে রাজ্যসভার সাংসদ। তা ছাড়া চিটফান্ড মামলায় রাজ্য সরকারের পক্ষে বহুবার আইনজীবী হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন তিনি। তাই জয়রামের সমালোচনা বরং তুলনায় অনেক বেশি নিঃস্বার্থ ও রাজনৈতিক।

You might also like