Latest News

শীত ফুরালেও গজলডোবায় পাখির ঝাঁক, শিলিগুড়ির কলেজ মাঠে ময়ূর, লকডাউনে বদলে গেছে প্রকৃতি

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চলছে গোটা বিশ্বজুড়ে। আর এই লড়াইয়ের অন্যতম শর্তই হল ঘর থেকে বেরোনো চলবে না। মানুষ গৃহবন্দি হওয়ায় প্রকৃতির এখন হাত-পা ছড়ানোর অবসর।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: শীতের শুরুতে ফুলবাড়ি–গজলডোবা ব্যারাজ মুখর হয়ে ওঠে পরিযায়ী পাখিদের কলতানে। ফেব্রুয়ারির শেষে বা মার্চের শুরুতে ফিরে যায় তারা। এবার মে মাসের প্রথম সপ্তাহ কেটে গেল। এখনও ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি খেলে বেড়াচ্ছে ব্যারেজের জলে। কবে এমন দেখেছেন মনে করতে পারছেন না লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চলছে গোটা বিশ্বজুড়ে। আর এই লড়াইয়ের অন্যতম শর্তই হল ঘর থেকে বেরোনো চলবে না। মানুষ গৃহবন্দি হওয়ায় প্রকৃতির এখন হাত-পা ছড়ানোর অবসর।

কোলাহলহীন শহর ও গ্রামে চলে আসছে হরিণ কিংবা ময়ূরের দল। জাতীয় সড়কে নিজেদের ঘর বানিয়ে নিয়েছে তাঁরা। শিলিগুড়ি কলেজ মাঠ, ডাবগ্রাম, সূর্যনগর মাঠে প্রায় দিনই দেখা মিলছে ময়ূর এবং নাম না জানা আরও পাখিদের। বাড়ির ছাদে এসে বসে থাকছে হর্নবিল। ইস্টার্ন বাইপাসের কাছে ফাড়াবাড়ি, ফাপড়িতে রাস্তায় দেখা হয়ে যাচ্ছে ময়ূরের ঝাঁকের সঙ্গে।

ডুয়ার্সের জঙ্গল লাগোয়া চা বাগান এলাকায় চিতাবাঘ, হাতি ঢুকে পড়ে প্রায়শই। এখন রাজগঞ্জের মান্তাদারি, বেলাকোবা, পাহাড়পুর কিংবা আমবাড়ি এলাকাতেও প্রতিদিনই চলে আসছে বনের হরিণ। রাস্তার পাশে নির্ভয়ে ঘাস খাচ্ছে তারা। এলাকার মানুষ বন দফতরকে জানালে বনকর্মীরা এসে সেই হরিণ আবার জঙ্গলে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন।

বাঁদরের দলের আনন্দও দেখার মতো। পাহাড়ের পথ ছেড়ে মাঝেমধ্যেই হিলকার্ট রোড, সেবক রোডে চলে আসে তারা। আবার ফিরেও যায়। কিন্তু এখন জনমানবশূন্য রাস্তা তাদের সারাদিন রাতের ঠিকানা। শুকনা, শালুগাড়া, ত্রিহানা এলাকার রাস্তা এখন সারাদিনই বাঁদরদের দখলে।

শিলিগুড়ির কাছে ফুলবাড়িতে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকাকে নিজেদের ঠিকানা বানিয়ে নিয়েছে শকুনের পাল। জাতীয় সড়কের উপর রীতিমতো জাঁকিয়ে বসেছে তারা।

তবে এর মধ্যে সবচেয়ে অবাক করা ঘটনা অবশ্যই গজলডোবা ব্যারেজ, মহানন্দা ব্যারেজে  পরিযায়ী পাখিদের থেকে যাওয়া। শীত চলে গেছে অনেকদিন আগে। ভরা গ্রীষ্মেও গরম নেই তেমন। দূষণহীন নদীতে পর্যাপ্ত মাছ থাকায় খাবারের অসুবিধেও নেই। তাই ফিরে যাওয়ার তাগিদও নেই। পাখিদের নিয়ে কাজ করে শিলিগুড়ির অপ্টোপিক। তার আহ্বায়ক দীপজ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, ‘‌‘লকডাউনে পরিবেশ বদলে যাওয়ায় এবং খাবার জোগান থাকায় ওরা থেকে গেছে বলে মনে হচ্ছে। বন্যপ্রাণীরাও পরিবেশকে নিরাপদ মনে করেই লোকালয়ের কাছে চলে আসছে।’’

You might also like