Latest News

উমফানের ত্রাণের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে, ক্ষোভে উত্তাল পূর্ব মেদিনীপুর

প্রধানের বাড়ি ঘেরাও করে তাঁদের গৃহবন্দি করে উত্তেজিত জনতা। দাবি করতে হবে। টাকা ফেরত দিতে হবে এখনই। একই দাবিতে পঞ্চায়েত অফিসেও চলে বিক্ষোভ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর : উমফানের ক্ষতিপুরণ বিলি নিয়ে দুর্নীতি ঘিরে তেতে উঠল রামনগর থানা এলাকার বসন্তপুর। পঞ্চায়েত প্রধান মমতা পাহাড়ির বাড়ি ঘিরে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। গরীব মানুষের ভাঙা ঘরের ছবি দেখিয়ে নিজের স্বামীর নামে উমফানের ক্ষতিপুরণের টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই প্রধানের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই সোমবার তাঁর বাড়ির সামনে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ।

বসন্তপুর পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা নিত্যানন্দ দেব ও বসুন্ধরা সামন্ত। হতদরিদ্র এই দুইজনেরই বাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় উমফানে। বাড়ি মেরামতের জন্য সরকারি সাহায্য কবে আসবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা। কিন্তু জানতেই পারেননি সরকারি সাহায্যের টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে না এসে ঢুকে গেছে পঞ্চায়েত প্রধান মমতা পাহাড়ির স্বামী ননীগোপাল পাহাড়ির অ্যাকাউন্টে। নিত্যানন্দ ও বসুন্ধরা জানান, ভাঙা ঘর সারানোর আবেদ‌ন নিয়ে প্রধানের কাছে গিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের ভাঙা ঘরের ছবিও জমা করে এসেছিলেন। কিন্তু সেই ঘরের ছবি দেখিয়ে তোলা টাকা নিজেরা আত্মসাৎ করেন ওই নেতারা। ফলে তাঁদের অ্যাকাউন্টে আর টাকা ঢোকেনি।

শুধু তাই নয়, অন্যের ক্ষতিগ্রস্ত পানের বরজ দেখিয়েও লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রধান, তাঁর স্বামী ও বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। যাঁদের পাকাবাড়ি রয়েছে, তাঁদেরও টাকা পাইয়ে দিয়ে কাটমানি নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এই সমস্ত অভিযোগেই আজ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে গ্রাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে পৌঁছয় রামনগর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী।

প্রধানের বাড়ি ঘেরাও করে তাঁদের গৃহবন্দি করে উত্তেজিত জনতা। দাবি করতে হবে। টাকা ফেরত দিতে হবে এখনই। একই দাবিতে পঞ্চায়েত অফিসেও চলে বিক্ষোভ। প্রধান মমতা পাহাড়ি ও তাঁর স্বামী এলাকার তৃণমূল নেতা ননীগোপাল পাহাড়ির পাল্টা দাবি তাঁরা এখনও তাঁদের অ্যাকাউন্ট চেক করেননি। যদি ভুল করে টাকা ঢুকে থাকে তাহলে টাকা ফেরত দিয়ে দেবেন তাঁরা। তাঁরা বলেন, ‘‘এই বিক্ষোভের পেছনে বিজেপির মদত রয়েছে। তাঁরাই মানুষকে উস্কানি দিচ্ছে । ভুল বোঝাচ্ছে।’’

বিজেপির জেলা সহসভাপতি মৌমিতা বেরা বলেন, ‘‘বিজেপির ভুল বোঝানোর কিছু নেই। মানুষ যে প্রতারিত হচ্ছেন সেটা তাঁরাই বুঝতে পারছেন। তারপরেই প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন। তৃণমূলের নেতারা গরীব মানুষের টাকা নিজেদের পকেটে ভরছেন। গোটা রাজ্যেই একই ছবি।’’

তৃণমূলের জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী বলেন, ‘‘আমাদের দল কোনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় বহু নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। এক্ষেত্রেও অভিযোগ এঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’’

You might also like