Latest News

ডাইনি অপবাদ দিয়ে মহিলাকে তাড়ানোর চেষ্টা, রুখতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে তির বর্ধমানে

জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওই গ্রামে ডাইনি অপবাদ দিয়ে এক মহিলার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা তাঁকে উদ্ধার করেছি। পাশাপাশি চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’

দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ফের ডাইনি অপবাদে মহিলার উপর নির্যাতন। বাধা দিতে গিয়ে আউশগ্রামে আক্রান্ত হল পুলিশ।

দিন পাঁচেক ধরে গ্রামের দেবতার থানে ধর্না দিয়েছিলেন এক অসুস্থ বধূ। খাওয়া দাওয়া ছেড়ে সেখানেই পড়েছিলেন তিনি। তাঁর ধারণা হয় ডাইনি ক্ষতি করেছে তাঁর। রবিবার হঠাৎই ওই বধূ গ্রামবাসীদের সামনে নিদান দিলেন পাড়ারই এক বধূ নাকি ডাইনি। তাকে গ্রাম থেকে না তাড়ালে ঘোর অমঙ্গল হবে। আর তারপরেই ডাইনি অপবাদ দিয়ে এক মহিলাকে তাড়ানোর দাবিতে উত্তাল হল আউশগ্রামের দিগনগর কেঁওতলা আদিবাসীপাড়া। খবর পেয়ে  পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে গ্রামবাসীরা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়।

গত মঙ্গলবার পাড়ায় ছিল মনসা পুজো। পাড়ার একাংশ জানান ওই দিন বুধিন বাস্কি নামে এক বধূ খড়িনদীতে স্নান করে আসার পর থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। খাওয়াদাওয়া ছেড়ে পাড়ার ঠাকুরতলায় টানা হত্যে দিয়ে পড়ে থাকেন। গ্রামের লোকজনদের অনেকের ধারণা হয় দেবতার ভর হয়েছে তাঁর উপর। সেই বুধিন বাস্কিই রবিবার সবার সামনে ঘোষণা করে পাড়ার এক মহিলা নাকি ডাইনি। আর তার জন্যই তাঁর অসুস্থতা। তাকে না তাড়ালে গ্রামের অমঙ্গল হবে।

যাকে ডাইনি অপবাদ দেওয়া হয় তার স্বামী বলেন, ‘‘আমি বাজারে গিয়েছিলাম। গ্রামে ফিরে এসে দেখি আমার স্ত্রীকে সবাই ডাইনি বলছে। ওকে গ্রাম থেকে চলে যেতে হবে বলে বলে নিদান দেয়। আমি বাধ্য হয়ে গ্রামের লোকজনদের কথা মেনে নিই।’’ যে মহিলাকে ডাইনি অপবাদ দেওয়া হয়, তাঁর বাপের বাড়ি ভেদিয়ায় ফোন করে ওই মহিলাকে নিয়ে যেতে বলে গ্রামের মানুষ। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত তাঁর বাপের বাড়ির কেউ না আসায় উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এলাকার মানুষ। খবর পেয়ে গ্রামে পুলিশ পৌঁছয়। ওই মহিলাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু গ্রামের লোকজন তাঁকে পুলিশের হাতে দিতে রাজি হয়নি।

উত্তেজিত গ্রামবাসীরা পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে রাখে দীর্ঘক্ষণ। কেঁওতলার কাছে গুসকরা-মানকর রোডে শুরু হয় অবরোধ। মহিলাকে উদ্ধারের জন্য বর্ধমান থেকে র‍্যাফ ও অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ওই গ্রামে যায়। তখন আদিবাসীপাড়ার বাসিন্দারা পুলিশকে লক্ষ্য করে তির ছুড়তে থাকে বলে অভিযোগ। পুলিশ পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। গ্রামবাসীরা দাবি করে ওই মহিলাকে কিছুতেই গ্রামে থাকতে দেওয়া হবে না। ওই মহিলাকে উদ্ধারের পর পুলিশ ধরপাকড় শুরু করে। জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওই গ্রামে ডাইনি অপবাদ দিয়ে এক মহিলার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা তাঁকে উদ্ধার করেছি। পাশাপাশি চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’

আউশগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের বিডিও চিত্তজিৎ বসু বলেন, ‘‘একটা সমস্যা হয়েছিল। পুলিশ সামাল দিয়েছে। আমরা ওই এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার চালাব।’’

 

 

You might also like