Latest News

করোনার জন্য থমকে বাসের চাকা, মাথায় হাত বর্ধমানের পর্যটন ব্যবসায়ীদের

পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় এলাকায় বেশ কয়েকটি বড় পর্যটন সংস্থার অফিস আছে। বর্ধমান শহর তো বটেই, গোটা জেলার মধ্যে বেশির ভাগ নামী পর্যটন সংস্থার অফিস এই শক্তিগড়েই। এই রকম একটি সংস্থার মালিক সেখ সাজেদ আলি বলেন, ‘‘অবস্থা খুবই খারাপ।পাঁচ মাস ধরে বাস বসে আছে। ব্যবসা একেবারে শেষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও কী ভাবে যে ঘুরে দাঁড়াব তা জানি না।’’

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: টানা পাঁচ মাস ধরে বাস ঠায় দাঁড়িয়ে আছে একই জায়গায়। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য চাকা গড়ায়নি এক ইঞ্চিও। তাই ঘাসের বনে চাকা ডুবে গেছে। চরম সংকটে ট্রাভেল এজেন্সিগুলি।

মার্চ মাসের পর থেকে একের পর এক ট্যুর বাতিল হয়েছে। তারপর টানা লকডাউন উঠলেও করোনার গ্রাসে গোটা দেশ। বেশিরভাগ দর্শনীয়, পর্যটন ও ধর্মীয় স্থানে কোভিডের আতঙ্কে তালা পড়েছে। সরকারি ভাবে কোভিডের জন্য জমায়েত বা বড় অনুষ্ঠান বন্ধ। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ- সহ বাকি মাসগুলিতে পরের পর বাতিল হয়েছে বিয়ের অনুষ্ঠান। ফলে বাস বুকিংও বাতিল। এই অবস্থায় একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছে পর্যটন সংস্থাগুলি। ঘুরে দাঁড়ানোর কোন রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন না পর্যটন সংস্থার মালিকরা।

পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় এলাকায় বেশ কয়েকটি বড় পর্যটন সংস্থার অফিস আছে। বর্ধমান শহর তো বটেই, গোটা জেলার মধ্যে বেশির ভাগ নামী পর্যটন সংস্থার অফিস এই শক্তিগড়েই। এই রকম একটি সংস্থার মালিক সেখ সাজেদ আলি বলেন, ‘‘অবস্থা খুবই খারাপ।পাঁচ মাস ধরে বাস বসে আছে। ব্যবসা একেবারে শেষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও কী ভাবে যে ঘুরে দাঁড়াব তা জানি না।’’

তাঁর সাতটি ট্যুরিস্ট বাস আছে। একজন করে চালক ও একজন করে খালাসি নিয়ে মোট ১৪ জন কর্মী রয়েছেন। প্রথমদিকে কর্মীদের পুরো বেতন দিলেও এখন অর্ধেক বেতন দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, ‘‘মাসের পর মাস এইভাবে আর টানা যাচ্ছে না। বাস চলছে না। তাই আয়ও বন্ধ। সংসার চালানোই এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’’

বর্ধমান শহরের জিটি রোডের ধারে তিনকোনিয়া বাসস্ট্যাণ্ডের পাশে পাতাল বাজারে পর্যটন সংস্থাগুলির অফিস। কোভিডের কারণে অফিসগুলির ঝাঁপ বন্ধ দীর্ঘদিন। ২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে শক্তিগড় স্টেশন যাওয়ার রাস্তার ধারে লাইন দিয়ে একের পর এক ট্যুরিস্ট বাসগুলি দাঁড়িয়ে আছে। বাসের তলায় বড় বড় ঘাস। চাকা ডুবে গেছে ঘাসের বনে।

সেখ সাজেদ আলি বলেন, ‘‘পাঁচ মাস ধরে বাসের ঋণের কিস্তি বাকি পড়ে গেছে। বিমার টাকা, ট্যাক্সের টাকা ও পারমিটের টাকাও বকেয়া আছে। বাস না চললে কী ভাবে টাকা দেব। এক একটি বাসের তিনটি করে বড় ব্যাটারি। গড়ে একটি ব্যাটারির দাম ২০ হাজার টাকা। সেই ব্যাটারিও এখন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন বাস না চলায় ইঞ্জিনেরও ক্ষতি হয়ে গেছে। টায়ারের অবস্থাও তাই। আবার নতুন করে বাস চালু করতে গেলে এক একটি বাসের পিছনে গড়ে দেড় থেকে দু’লক্ষ টাকা করে খরচ আছে।’’

অন্যদিকে বাসের কর্মীরাও এখন কাজ হারিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানে মন দিয়েছেন। এতদিন টানা বাস বসে থাকায় অনেক কর্মীই ট্রাক বা অন্য কোনও যানবাহন চালাচ্ছেন রোজগারের আশায়।

পর্যটন সংস্থার মালিকরা জানান, গোটা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ট্যুরিস্ট বাসগুলি যাতায়াত করে। একেবারে কন্যাকুমারিকা থেকে জন্মু কাশ্মীর। গোয়া,মুম্বই সব জায়গাতেই তাদের বাসের যাতায়াত বছরভর। অগষ্ট মাসে দিঘা ও পুরীতে যাওয়ার জন্য লম্বা বুকিং থাকে। কিন্তু এই বছর সব বন্ধ।

এখন আশাই ভরসা সাজেদ আলির মতো পর্যটন ব্যবসায়ীদের। কবে কোভিড বিদায় নেবে, সব কিছুর মতোই আবার ঘুরে দাঁড়াবে তাঁদের সংস্থাগুলি, বেঁচে উঠবে ব্যবসা, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।

You might also like