Latest News

স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড আছে, তবু ‘ফেরাল’ নার্সিংহোম, তপ্ত উত্তর দিনাজপুর তৃণমূল

ওই তৃণমূল কর্মীর অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র সন্দীপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, “স্বাস্থ্যসাথী আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর ড্রিম প্রজেক্ট। এটা নিয়ে কেউ ছেলেখেলা করতে পারে না।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড রয়েছে। তা সত্ত্বেও ফিরিয়ে দিয়েছে রায়গঞ্জের একটি নার্সিংহোম। চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় সরব হলেন এক তৃণমূল কর্মী। যদিও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। স্বাস্থ্য দফতরকে জানিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন জেলা তৃণমূল।

রায়গঞ্জের ৯ নম্বর গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা হবিবুর রহমানের স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে বঞ্চনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে ক্ষুব্ধ ওই তৃণমূল কর্মী অভিযোগ করেন, তাঁর সত্তরোর্ধ মায়ের নামে রাজ্য সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড থাকা সত্ত্বেও রায়গঞ্জের একটি বেসরকারি নার্সিংহোম তাঁর চিকিৎসা না করেই তাকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। তিনি বলেন “গত দু’দিন আগে রায়গঞ্জের ওই নার্সিংহোমে আমার মাকে ভর্তি করাতে নিয়ে যাই। কিন্তু আমার মায়ের স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড থাকা সত্ত্বেও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ সেই কার্ডের কোনও মান্যতা না দিয়ে আমাকে বারবার ডাক্তারের কাছে পাঠায়। আবার ডাক্তারের পরামর্শে নার্সিংহোমে গিয়ে যোগাযোগ করি। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হয়নি। উল্টে এই কার্ডে কোনও কাজ হবে না বলে নার্সিংহোম জানিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত মাকে বাড়িতে নিয়ে চলে আসি। আমি নিজে তৃণমূল সমর্থক। মুখ্যমন্ত্রীর আদর্শ আমি পছন্দ করি। কিন্তু সে সময় আমার মাথা ঠিক ছিল না, পরিস্থিতিই বাধ্য করেছে সেই লাইভটা করার জন্য।”

সেই ফেসবুক লাইভে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়ের কাছে জবাবদিহি চেয়ে তিনি বলেছিলেন “আজকে সরকার দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষকে সরকারি পরিষেবা দেবার জন্য। তাহলে আপনারা ভদ্রভাবে প্রতারণা করছেন। আমি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে চাই, যে কী আরম্ভ করেছেন আপনারা? একেবারে ডাহা মিথ্যাকথা বলেছেন। এই কার্ড দেখে নার্সিংহোম বলেছে যে এই কার্ডে শুধু অপারেশন করা হয়। এই কার্ডের মুল্য কি সেটা ঠিকভাবে জানান।’’

যদিও ওই ব্যক্তি ভুল বুঝে এসব করেছেন বলে পালটা দাবি করেছেন ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। এদিন ওই বেসরকারি নার্সিংহোমের ম্যানেজার গৌতম ঘোষ জানিয়েছেন, “ওনাকে আমরা কার্ড সহ ফেরত পাঠাইনি। ওঁর মায়ের অনেক সমস্যা ছিল। সেগুলো জানার আর ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। উনি ভুল বুঝে এসব করেছেন।”

ওই তৃণমূল কর্মীর অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র সন্দীপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, “স্বাস্থ্যসাথী আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর ড্রিম প্রজেক্ট। এটা নিয়ে কেউ ছেলেখেলা করতে পারে না। আমরা স্বাস্থ্য দফতর এবং জেলা প্রশাসনকে জানিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করব।”

You might also like