Latest News

বৃষ্টির জলের তোড়ে চোপড়ায় ভেসে গেল রাস্তা, জলপাইগুড়িতে জলবন্দি মানুষদের উদ্ধারে রেসকিউ টিম

প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চোপড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। বৃষ্টির জলে প্লাবিত চোপড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কিছু এলাকা। টানা বৃষ্টির জেরে জল বেড়েছে ধূপগুড়ি ব্লকের জলঢাকা, বামনী, ডুডুয়া, গিলান্ডি সহ বিভিন্ন নদীতে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন ধূপগুড়ি ব্লকের বাসিন্দারা।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃষ্টির জলের তোড়ে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার মের্ধাবস্তি এলাকায় ভেঙে গেল রাস্তা-সহ কালভার্ট। কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েত দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত ও চোপড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয় মানুষজন দ্রুত ওই ভেঙে যাওয়া কালভার্ট মেরামতির দাবি তুলেছেন। চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মহম্মদ আজহারউদ্দিন জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই মহকুমাশাসক ও জেলাশাসককে পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ওই কালভার্টটি চোপড়া পঞ্চায়েতের সাথে মাঝিয়ালি এবং দাসপাড়া পঞ্চায়েতের মূল সংযোগকারী রাস্তা ছিল বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। ওই কালভার্ট না থাকায় চোপড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়ণপুর এবং মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের দরিয়াগছ, বক্সাবাড়ি, শুভান্দিগছ এলাকার মানুষজনকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার ঘুরে চোপড়া যেতে হবে। পাশাপাশি ভোলাগছ, কাচাকালি, দাসপাড়া এবং মাঝিয়ালি এই সমস্ত এলাকার মানুষজনকে ১২ থেকে ১৬ কিলোমিটার ঘুরে চোপড়া যেতে হবে।

প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চোপড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। বৃষ্টির জলে প্লাবিত চোপড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কিছু এলাকা। আড়ালি গ্রামে ১৫ থেকে ২০ টি বাড়ি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভাঙছে চোপড়ার সঙ্গে আড়ালি গ্রামের সংযোগকারী রাস্তাও। বৃষ্টির দাপট এতটাই বেশি যে জল জমেছে এলাকার আনারস ও চা বাগানগুলিতে। ফলে ঘোর সঙ্কটে চা এবং আনারস চাষিরা।

চোপড়া ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, লাগাতার ১৫ দিন ধরে বৃষ্টি হয়েই চলেছে চোপড়ায়। গত শনি ও রবিবার শুধু বিরাম নিয়েছিল আকাশ। মঙ্গলবার থেকে অতি বৃষ্টির কারণে এমন বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিপর্যস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছে ব্লক প্রশাসন।

জলপাইগুড়িতে জলবন্দি মানুষকে উদ্ধারে নামল সিভিল ডিফেন্স। করলা নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা। বুধবার দুপুরে এই ওয়ার্ডে করলা নদী সংলগ্ন পরেশ মিত্র কলোনির জলমগ্ন এলাকায় উদ্ধার কাজে নামে সিভিল ডিফেন্স ও রেসকিউ টিমের সদস্যরা। সঙ্গে ছিলেন জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি বিপুল সিংহর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী।

টানা বৃষ্টির জেরে জল বেড়েছে ধূপগুড়ি ব্লকের জলঢাকা, বামনী, ডুডুয়া, গিলান্ডি সহ বিভিন্ন নদীতে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন ধূপগুড়ি ব্লকের বাসিন্দারা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জলমগ্ন এলাকার যান ধূপগুড়ির তৃণমূল বিধায়ক মিতালী রায়।

এ দিকে ভারী বৃষ্টির কারণে পরের পর ধসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পাহাড়ের একাধিক রাস্তা। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং ও সিকিমগামী রাস্তায় যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ধস সরিয়ে রাস্তা মেরামতির কাজ জারি রয়েছে। তবে ছোট গাড়িগুলি কোনওমতে যাতায়াত করতে পারলেও বড় পণ্যবাহী গাড়িগুলি চলাচলের জন্য সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে ১০ টন পর্যন্ত মালবাহী গাড়িগুলিকে করোনেশন ব্রিজ দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

You might also like