Latest News

পাশ করানোর জন্য ছাত্রীর থেকে ১০ হাজার টাকা চাইলেন অধ্যাপক, অডিও ক্লিপ ভাইরাল হতেই শিলিগুড়িতে তোলপাড়

গত বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে নেট দুনিয়ায়। তারপরেই  শিলিগুড়ি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ওই অধ্যাপকের  বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাটিগাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি : পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য ছাত্রীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে নেট দুনিয়ায়। তারপরেই  শিলিগুড়ি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ওই অধ্যাপকের  বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাটিগাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ওই ছাত্রীও শিলিগুড়ি কলেজে মেল মারফত অধ্যাপকের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ জানিয়েছেন। শিলিগুড়ি কলেজের পরিচালন সমিতি সোমবার এই মর্মে একটি বৈঠক করে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ওই অধাপককে কলেজের সমস্ত কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কোনও ক্লাসই তিনি এখন থেকে নিতে পারবেন না। এমনকি অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজে প্রবেশ পর্যন্ত করতে পারবেন না তিনি। সবটা নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিলিগুড়ি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

ছাত্রীর কাছ থেকে অধ্যাপকের টাকা চাওয়ার অডিও ক্লিপ ভাইরাল হতেই শিলিগুড়ি শিক্ষামহলে শোরগোল পড়ে গেছে। ছাত্র সংগঠন থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন শিক্ষাবিদরা এই ঘটনার  নিন্দনীয় বলেই আখ্যা দিয়েছেন। এদিন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই ঘটনার বিরোধিতায় ‘‌কালা দিবস’‌ পালন করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। অবস্থান–বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালিত হয় উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়েও। অভিযুক্ত অধ্যাপকের কুশপুতুলও দাহ করা হয়।

শিলিগুড়ি কলেজের অধ্যক্ষ সুজিত ঘোষ বলেন, ‘এই অডিও শুনে মনে হচ্ছে এই কণ্ঠস্বর ওই অধ্যাপকের। যদিও তা এখনও প্রমাণিত নয়। তবে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে শাস্তি পেতে হবে।’ অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন রেজিস্ট্রার তাপস চ্যাটার্জি বলেন, ‘‘‌বিষয়টা শুনেছি। খুবই নিন্দনীয়। তবে বাজারে এত অ্যাপ বেরিয়ে গেছে যাতে করে যে কারও গলার স্বর পাল্টে অন্যজনের মতো করে দেওয়া যেতে পারে। এই অডিও ক্লিপের ফরেন্সিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিৎ একটি বিভাগীয় তদন্ত করার।’‌

এদিন শিলিগুড়ি কলেজের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে সাত জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি জয়ন্ত কর বলেন, ‘‌আমরা সবটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইডলাইন মেনে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি। অভিযুক্ত অধ্যাপককে সাসপেন্ড করা হচ্ছে না। তবে তাঁকে কলেজের সমস্ত কাজ থেকে, অনলাইন–অফলাইন ক্লাস নেওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। কলেজের ওয়েবসাইট থেকেও যাতে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয় তার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’‌

এই ঘটনা নিয়ে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, ‘‘‌ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে এর আগেও নানান বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। শিক্ষা দফতরের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ তবে অভিযুক্ত অধ্যাপক বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি এ সবের সঙ্গে জড়িত নই।’’

You might also like