Latest News

বৃষ্টি নামতেই রাস্তায় পুকুর, বর্ধমান-কাটোয়া রোডে নিত্য নাকাল এলাকার মানুষ

বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলাশাসক বিজয় ভারতীও। ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘পিডব্লিউডিকে আমি অন্তত ২১ বার বলেছি। তবুও কেন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা আমি বুঝতে পারছি না।’’

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: সমস্যার আরেক নাম বর্ধমান-কাটোয়া রোড। প্রায় বছর দেড়েক ধরে এই রাস্তার বেহাল দশা। অভিযোগ, একেক জায়গায় তাপ্পি মেরে চলে যায় ঠিকাদারের লোকজন। মাসখানেক যেতে না যেতেই ফের দুর্ভোগের চিত্র ফুটে বের হয়। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় গ্রীষ্মকালে ধূলো ঝড় আর বৃষ্টি হলেই বিভীষিকা।

শুধুমাত্র সাধারণ মানুষই নয় গত ফেব্রুয়ারি মাসে স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি স্বয়ং চিঠি লিখেছিলেন জেলাশাসককে। তারপর রাস্তা সংস্কার শুরু হলেও মাঝপথে তা থমকে যায়। ভরা বর্ষায় এখন কার্যত চলাচলের অযোগ্য বর্ধমান-কাটোয়া রোড।

বর্ধমান স্টেশনের ওভারব্রিজ পেরিয়ে গেলেই ডান দিকে এবং বাঁ দিকে দুটি রাস্তা চলে গেছে। ডান দিকের রাস্তাটি চলে যাচ্ছে কালনা। বাঁ দিকে বর্ধমান কাটোয়া রোড। এই রাস্তা দিয়ে যেমন চলে যাওয়া যায় নবদ্বীপ, তেমনি উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগসূত্রও স্থাপিত হয় এই রাস্তার মাধ্যমে। কলকাতা থেকে শিলিগুড়িগামী অনেক বাসই বর্ধমান-কাটোয়া রোডের উপর দিয়ে যাতায়াত করে।

এত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা নিয়ে সমস্যার অন্ত নাই। ষ্টেশনের পর বাজেপ্রতাপপুর মোড় থেকেই রাস্তার মাঝে মধ্যেই তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। সাবজোলাপুল, বিজয়রাম, হটুদেওয়ান, ভোতার পাড় একাধিক এলাকায় রাস্তার উপর রয়েছে বড়বড় গর্ত। সবথেকে খারাপ অবস্থা বিজয়রাম এলাকায়। এখানে রাস্তায় প্রায় হাঁটু সমান গর্ত। গর্তে জমে রয়েছে জল। সেই গর্তের উপর দিয়ে যাতায়াত করছে বাস লরি, গাড়ি, টোটো। নেড়োদিঘি, হটুদেওয়ান এলাকা থেকে রাস্তার মাঝখানটা ঠিক আছে। কিন্তু  দুইপাস ভেঙেচুরে একাকার অবস্থা। ভোতার পাড় পেট্রোল পাম্প এলাকায় রাস্তার পিচ উঠে বড়বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বাজেপ্রতাপপুর থেকে দেওয়ানদিঘি পর্যন্ত রাস্তার এই হাল চোখে পড়বে।

শুধু রাস্তা খারাপই নয়। রয়েছে আলোর সমস্যা। রাতে এই রাস্তাটি অন্ধকারে ডুবে থাকে। ভরসা বলতে গাড়ির হেডলাইটের আলো এবং আশেপাশের দোকান থেকে আসা একটু আধটু আলোর দিশা। কিন্তু বেশি রাতে দোকানপাট আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে গেলে গোটা রাস্তা ডুবে যায় অন্ধকারে। বর্ধমানের খেতিয়া, ভাতার, কাটোয়া এমনকি মুর্শিদাবাদ-সহ একাধিক এলাকা   থেকে বর্ধমান হাসপাতালে এই রাস্তা ধরেই আসতে হয় রোগীদের। খানাখন্দ ভরা রাস্তা দিয়ে চলে অ্যাম্বুল্যান্সও। অন্ধকারের জন্য ছোটখাট দুর্ঘটনা লেগেই থাকে বলে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন।

এলাকার ব্যবসায়ী শেখ রহমত বলেন, ‘‘কিছুদিন আগে রাস্তায় কাজ শুরু হয়। কিন্তু মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় সেই কাজ। অর্ধসমাপ্ত রাস্তায় বড়বড় গর্ত। বৃষ্টির পর রাস্তা এখন পুকুর।’’ ওই রাস্তা দিয়ে মঙ্গলকোট থেকে বর্ধমান হাসপাতালে প্রসবের জন্য নিয়ে আসা তানজিরা বিবির বাড়ির লোকজন বলেন, ‘‘সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে আসছিলাম। পথেই না বিপদ ঘটে যায়।’’

বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলাশাসক বিজয় ভারতীও। ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘পিডব্লিউডিকে আমি অন্তত ২১ বার বলেছি। তবুও কেন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা আমি বুঝতে পারছি না।’’

তবে রাস্তা খারাপের কথা মেনে নিচ্ছে পূর্ত দফতরও। দফতরের আধিকারিক ভজন সরকার বলেন, ‘‘বিজয়রাম এলাকায় রাস্তা থেকে জল সরিয়ে প্রাথমিকভাবে রাস্তার হাল ফেরার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। রাস্তাটি পাকাপাকি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টি কমলে ফের জোরকদমে কাজ শুরু হবে।’’

You might also like