Latest News

লিলুয়া হোমের ঘটনা নিয়ে চন্দ্রিমা বললেন, ‘ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাকে ছোট করা যায় না’

বুধবার রাত না পোহাতেই ঘটনা ঘিরে শুরু হয় রাজনৈতিক কাজিয়া। রাতেই নির্যাতিতা ও তার পরিবারের লোকজনদের নিয়ে বেলুড় থানায় আসেন বিজেপি রাজ্য যুব মোর্চা সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আজ সকাল এগারোটা নাগাদ হোমে আসেন হুগলির সাংসদ, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: সরকারি হোমে কিশোরীর হাতে ‘দিদিদের’ সেফটিপিন ফুটিয়ে নাম লেখার ভয়াবহ খবর বুধবার প্রকাশ্যে আসতেই শিহরিত হয়েছিলেন রাজ্যের মানুষ। এক নাবালিকার উপর এমন অত্যাচারের ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে লিলুয়ার সরকারি হোমের নিরাপত্তা নিয়ে। তবে বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বললেন, ‘‘ভুল কথা ব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাকে ছোট করা যায় না। এটা যে সঠিক ঘটনা নয় সে সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমও অবহিত আছে।’’ তবে কোনটা সঠিক সে সম্পর্কে অবশ্য কিছু বলেননি তিনি।

বুধবার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সঙ্গে সঙ্গে হোমে ছুটে যান শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী। ঘটনার পুর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তিনি জানিয়েছিলেন, মেয়েটির হাতে যে নামগুলি লেখা রয়েছে ওই নামে হোমে কোনও আবাসিক নেই। হয়তো অন্য কোনও নাম লেখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে। ওই নাবালিকার কাউন্সেলিংও করা হবে।

তবে রাত না পোহাতেই ঘটনা ঘিরে শুরু হয় রাজনৈতিক কাজিয়া। রাতেই নির্যাতিতা ও তার পরিবারের লোকজনদের নিয়ে বেলুড় থানায় আসেন বিজেপি রাজ্য যুব মোর্চা সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান মহিলা মোর্চা কর্মীরা। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয় থানায়। আজ সকাল এগারোটা নাগাদ হোমে আসেন হুগলির সাংসদ, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। সুপার এর সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে তিনি হুঁশিয়ারি দেন তিনদিনের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। হোমের চূড়ান্ত অব্যবস্থার অভিযোগও করেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি জানান নাবালিকাদের দিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্ম করানো হয় ওই হোমে।

তারপরেই তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ ঘটনা সামনে আনার জন্য। তবে এ ঘটনা যে সত্য নয় সে সম্পর্কে অবিহিত আছে সংবাদমাধ্যমও।

চুঁচুড়া সিঙ্গিরবাগানের ১৬ বছরের নাবালিকা ১৫ ডিসেম্বর সন্ধেবেলা বাবার বকুনি খেয়ে রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। রাতে হাওড়া স্টেশনে তাকে ঘোরাফেরা করতে দেখে জিআরপির সন্দেহ হয়। তারা ওই নাবালিকাকে আটক করে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেয়।

চাইল্ড লাইনের মাধ্যমে লিলুয়ার সরকারি হোমে ঠাঁই হয় ওই নাবালিকার। পুলিশের মাধ্যমে খবর দেওয়া হয় ওই নাবালিকার বাড়িতে। খবর পেয়ে লিলুয়া হোমে ছুটে যান নাবালিকার পরিবারের লোকজন। সেখান থেকে জানানো হয় ১৪ দিন পরে মেয়েকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

১৪ দিন পর ওই নাবালিকা বাড়ি ফিরে আসলে তার মা দেখেন মেয়ের হাতের ওপর বেশ কিছু কাটা দাগ। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে জানায় হোমের কয়েকজন সিনিয়র দিদি সেফটিপিন দিয়ে তার হাতের ওপর নাম খোদাই করে লিখে দিয়েছে।ওই নাবালিকার মা জানিয়েছে তাঁর মেয়ে এখনও আতঙ্কগ্রস্ত। ঘোরের মধ্যে রয়েছে সে।

অভিযোগ পেয়ে পুলিশ মামলা শুরু করেছে। গোপন জবানবন্দি নেওয়া হবে নির্যাতিতা কিশোরীর।

 

 

You might also like