Latest News

আর পঞ্চায়েত নয়, ফের গ্রামে গ্রামে পানীয়জলের দায়িত্ব নিচ্ছে জনস্বাস্থ্য দফতর

গ্রামীণ এলাকায় থাকা নলবাহিত জল প্রকল্পগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ২০১৬ সালে গ্রাম পঞ্চায়েতের হাতে তুলে দেয় পিএইচই। তখন জারি করা নির্দেশে বলা হয় প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মীদের পারিশ্রমিক সবকিছুই নির্ধারণ করবে চতুর্থ অর্থ কমিশন। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার, বিশেষজ্ঞ কর্মী কোনও কিছুরই ব্যবস্থাই করতে পারেনি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি। ফলে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে ‘ঠিকাদারদের’ উপর ভরসা করতে হয়।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জল প্রকল্পের দায়িত্ব পঞ্চায়েত থেকে ফের চলে যাচ্ছে পিএইচই-র হাতে। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরী দফতরেরর (পিএইচই) সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পরেই জারি হয়েছে নির্দেশিকা। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী গোটা রাজ্যের গ্রামীন এলাকায় থাকা ৫৮৭টি নলবাহিত জলপ্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার কাজ এবার থেকে সরাসরি দেখভাল করবে পিএইচই। যার মধ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলায় রয়েছে ১৩২ টি জল প্রকল্প। জানুয়ারি মাসের মধ্যে প্রকল্পগুলি পিএইচই এর হাতে তুলে দেওয়া হবে ।

গ্রামীণ এলাকায় থাকা নলবাহিত জল প্রকল্পগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ২০১৬ সালে গ্রাম পঞ্চায়েতের হাতে তুলে দেয় পিএইচই। তখন জারি করা নির্দেশে বলা হয় প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মীদের পারিশ্রমিক সবকিছুই নির্ধারণ করবে চতুর্থ অর্থ কমিশন। নির্দেশের পরেও প্রকল্প হাতে পেতে দু’বছর লেগে যায় পঞ্চায়েতগুলির। শুধু তাই নয় জল প্রকল্পের কাজ করার জন্য ইঞ্জিনিয়ার, বিশেষজ্ঞ কর্মী কোনও কিছুরই ব্যবস্থাই করতে পারেনি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি। ফলে গ্রাম পঞ্চায়েত গুলিকে ‘ঠিকাদারদের’ উপর ভরসা করতে হয়।

প্রথমদিকে চতুর্দশ অর্থ কমিশন জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের জন্য সরাসরি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে টাকা পাঠাচ্ছিল। পঞ্চদশ অর্থ কমিশন টাকা পাঠালেও তা কমে যায়। পরবর্তী সময়ে কর্মীদের সময়মতো পারিশ্রমিক না পাওয়া ও রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি প্রভৃতি নানা অভিযোগও উঠতে শুরু করে বিভিন্ন জায়গা থেকে। জল প্রকল্প নিয়ে এমন সব অভিযোগ উঠতে শুরু হওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসন মাধ্যমে জানার পরেই নড়েচড়ে বসে রাজ্য সরকার।

ইতিমধ্যে রাজ্য সরকার জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের মাধ্যমে সাধারণের বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছানোর জন্যে ‘জলস্বপ্ন’ প্রকল্প চালু করেছে। গ্রামের বাসিন্দারা এখন বিনামূল্যে ওই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে জল প্রকল্প নিয়ে পিএইচই ও পঞ্চায়েতের মধ্যে যাতে বিরোধের ক্ষেত্র তৈরি না হয় সেই নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় পঞ্চায়েত দফতর।

প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব ফের পিএইচই- র হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হল। ৯ নভেম্বর গৃহীত হওয়া এই সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত  নির্দেশিকা রাজ্যের প্রতিটি জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, এখন পঞ্চদশ অর্থ কমিশন থেকে প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার ও পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার কাজ সবই করবে পিএইচই। তারজন্য পিএইচই গ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্গে চুক্তি করবে। নলবাহিত পানীয় জলের বিষয়ে কোনও অভিযোগ উঠলে তা গ্রামপঞ্চায়েত শুনবে।

পূর্ব বর্ধমান জেলায় ১৭১ টি গ্রামীণ এলাকায় এমন জল প্রকল্প রয়েছে। এরমধ্যে ৩৯টি সরকারের হাতে। বাকি ১৩২টি আছে  গ্রাম পঞ্চায়েতের হাতে। নতুন ২৫ টি জল প্রকল্পের কাজ চলছে। এই সবগুলি এবার পিএইচই নিতে চলেছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের বর্ধমান উপভুক্তির এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সোমনাথ কুণ্ডু বলেন, “প্রকল্পগুলি আগের মতই আমরা দেখভাল করব। এতে জলস্বপ্ন প্রকল্পের সঙ্গে নলবাহিত পানীয় জল সুষ্ঠুভাবে পৌঁছনো সম্ভব হবে।’’

You might also like