Latest News

করোনায় মৃতের দেহ দাহ করতে আনতেই উত্তাল বাঁশবেড়িয়ার গন্ধেশ্বরী ঘাট, অবস্থা সামাল দিল পুলিশ

চুঁচুড়া থানার আইসি প্রদীপ দাঁ বলেন, ‘‘সংক্রমণ ছড়াবে এমন ধারণা থেকেই মৃতদেহ দাহ করতে বাধা দিচ্ছেন মানুষ। কিন্তু প্রশাসন সতর্কতার সঙ্গেই এই কাজটি করছে। এটা মানুষকে বুঝতে হবে।’’

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: করোনা আক্রান্তের মৃতদেহ দাহ করাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধল বাঁশবেড়িয়ার গন্ধেশ্বরী ঘাটে। করোনা আক্রান্তের দেহ এনে পোড়ানো হচ্ছে এই গুজব রটে যেতেই সোমবার সন্ধে থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা দলে দলে গন্ধেশ্বরী ঘাটে জড়ো হন। এরপরেই একটি মৃতদেহ দাহ করার জন্য আনা হলে শুরু হয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ। তাঁদের বাধায় দীর্ঘক্ষণ ওই মৃতদেহ দাহ করা যায়নি।  পরিস্থিতি সামাল দিতে চুঁচুড়া থানার বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। লাঠি উঁচিয়ে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দেয় পুলিশ।

গন্ধেশ্বরী ঘাটে কোনও বৈদ্যুতিক চুল্লি নেই। আছে শুধুমাত্র কাঠে পোড়ানোর ব্যবস্থা। তাই এখন আর খুব একটা কেউ মৃতদেহ সৎকার করতে এই শ্মশান ঘাটে  আসেন না। এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষই পরিজন বা প্রতিবেশীর মৃত্যু হলে দাহ করতে চলে যান ত্রিবেণী শ্মশানঘাটে। এখন মহামারী পরিস্থিতিতে শুধু গন্ধেশ্বরী ঘাট নয়, জেলার আরও কয়েকটি শ্মশানে করোনায় মৃতের দেহ দাহ করার ব্যবস্থা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, শ্রীরামপুরে শ্রমজীবী হাসপাতাল, বা ব্যান্ডেল ও আরামবাগের কোভিড হাসপাতালে যাঁরা মারা যাচ্ছেন, তাঁদের দাহ করার ব্যবস্থা জেলাতেই করতে হচ্ছে। তাই বেশ কয়েকটা চিহ্নিত শ্মশানঘাটে সবরকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা্ নিয়েই দেহ দাহ করা হচ্ছে। গন্ধেশ্বরী ঘাটেও করোনায় মৃতের দেহ দাহ করার জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সোমবার গন্ধেশ্বরী ঘাটে করোনা রোগীর দেহ দাহ করতে আনা হচ্ছে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভে সামিল হন এলাকার মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, শ্মশান লাগোয়া এলাকায় তাঁদের বাড়ি। তাই প্রতিমুহূর্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ভুগছেন তাঁরা। তাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে এই শ্মশানে তাঁর দেহ পোড়াতে দিতে তাঁরা রাজি নন।

গভীর রাত পর্যন্ত বাসিন্দাদের বিক্ষোভের জেরে মৃতদেহ দাহ করতে পারা যায়নি। পরে চুঁচুড়া থানার আইসি প্রদীপ দাঁয়ের নেতৃত্বে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। প্রদীপবাবু বলেন, ‘‘করোনায় মৃতের দেহ পোড়ালে সংক্রমণ ছড়াবে এমন ধারণা থেকেই মৃতদেহ দাহ করতে বাধা দিচ্ছেন মানুষ। কিন্তু প্রশাসন সতর্কতার সঙ্গেই এই কাজটি করছে। এটা মানুষকে বুঝতে হবে। বাধা দিলে, জেলায় যাঁরা মারা যাচ্ছেন তাঁদের কিভাবে দাহ করা হবে?’’

বেশি রাতে বাসিন্দাদের হটিয়ে দিয়ে ফের শুরু হয় মৃতদেহ সৎকারের কাজ।

You might also like