Latest News

রাস্তায় পড়ে মৃত্যু, করোনা সন্দেহে এগোল না কেউ, পরে জানা গেল প্রৌঢ়ের রিপোর্ট নেগেটিভ

রিপোর্ট নেগেটিভ জেনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিমল সানির পরিবার। স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে গাফিলতির নালিশ জানান তাঁরা।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: ফের বিনা চিকিৎসায় রাস্তায় পরে মৃত্যু হল বিমল সানি নামে এক প্রৌঢ়ের। বারাসাত ১ নম্বর ব্লকের দত্তপুকুর থানার বামুনগাছির সারদা পল্লিতে।

মৃত ব্যক্তি পেশায় ছিলেন প্যান্ডেল কর্মী। জান‌া গেছে ১০ দিন আগে মুখের ভিতর মারী ফুলে রক্ত বের হতে থাকে তাঁর। সঙ্গে হালকা জ্বর। ছোট জাগুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে আউটডোরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। ডাক্তাররা তাঁকে পরীক্ষা করার পর করোনা টেস্টের পরামর্শ দেন। তারপর ছোট জাগুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালের ডাক্তারদের নির্দেশ মতো বিমল সানি বাড়িতে চলে যান। কিন্তু ন’দিন পেরিয়ে গেলেও করোনা টেস্টের রিপোর্ট হাতে পাননি বিমল সানির পরিবার।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিমলবাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। সেই দেখে বিমলবাবুর স্ত্রী কাসেমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ফোন করেন। কিন্তু সেখান থেকে তেমন সাহায্য না পেয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের দ্বারস্থ হন। এরপর স্থানীয় দেবেশ অধিকারী নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় রোগীর করোনার উপসর্গ রয়েছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের অ্যাম্বুল্যান্স আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়ম-নীতির জটিল বেড়াজাল পেরিয়ে সেই অ্যাম্বুল্যান্স আসতে দু’ঘণ্টা কেটে যায়।

করোনা স্পেশাল অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছয় বিমলবাবুর গ্রামে। কিন্তু ততক্ষণে সবশেষ। রাস্তাঘাট জলে ডুবে থাকায় অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছতে পারবে না বিমল বাবুরবাড়িতে। তাই আগে থেকেই মরণাপন্ন স্বামীকে হাঁটিয়ে হাঁটিয়ে বড় রাস্তায় অ্যাম্বুল্যান্সের কাছাকাছি নিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন তাঁর স্ত্রী। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পথেই পড়ে মারা যান ৫৫ বছরের বিমল সানি। মারা যাবার পর প্রায় দু’ঘণ্টা তাঁর মৃতদেহ পড়ে ছিল রাস্তাতেই।

যে করোনা সন্দেহে বিমলবাবুকে কোনও গ্রামবাসী স্পর্শ করেনি। মানবিকতার খাতিরে তুলে নিয়ে যায়নি হাসপাতলে। বৃহস্পতিবার বিকেলে যখন রিপোর্ট এসে পৌঁছয়, দেখা যায় সেই রিপোর্ট নেগেটিভ। এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিমল সানির পরিবার। স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে গাফিলতির নালিশ জানান তাঁরা। রোগীর চিকিৎসা শুরুর আগে জটিল পদ্ধতিরও তীব্র প্রতিবাদ জানান।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য নিখিল দাস বলেন,‘‘অ্যাম্বুল্যান্স আসতে একটু দেরি হয়েছে তা ঠিক, তবে গাফিলতিতে মৃত্যু হয়েছে এই অভিযোগ ঠিক নয়। ওঁর স্ত্রী ঘটনাস্থলেই ছিলেন। বাড়ি পর্যন্ত অ্যাম্বুল্যান্স যায় না। তাই হাঁটিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছিল তাঁকে।’’

You might also like