Latest News

পরপর দু’বারই মেয়ে, দাসপুরে তাদের সামনেই মা’কে বিষ খাইয়ে মারল বাবা!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্বশুরবাড়িতে বধূ নির্যাতনের ঘটনার মর্মান্তিক পরিণতি। মেয়ের সামনেই মাকে বিষ খাইয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল বাড়ির লোকজনের উপর। ঘটনার কথা সামনে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার অন্তর্গত ধরমপুর এলাকায়। মৃত মহিলার নাম গীতা সাঁতরা। অভিযোগ, বাড়ির সবাই মিলে বিয়ের পর থেকেই অত্যাচার চালাত তাঁর উপর। দুই মেয়ে ছিল তার সাক্ষী। এদিন তার চরম আর মর্মান্তিক পরিণতিতে শিউড়ে উঠেছে প্রতিবেশীরাও।

পর পর দু’বার মেয়ে হওয়ার ‘অপরাধেই’ নাকি খুন হতে হল দাসপুরের ওই গৃহবধূকে, এমন অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ। মৃতের বাড়ির লোকজনও একই অভিযোগ তুলেছেন।

মৃতের মেয়ে পুলিশকে জানিয়েছে, সকাল থেকেই ঝামেলা চলছিল। দুপুরে ঘুম থেকে উঠে সে দেখে জোর করে তার মাকে বিষ খাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। মেয়েটির কথায়, “গত ৩ বছর ধরে আমার মাকে ওরা মারধর করত। সবাই মিলেই মারত। সেদিন দুপুরে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাবা মারছে। তারপর বিষ খাইয়ে দিল।”

মাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও বাবার কাছে মার খেতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সেই মেয়ে। এমনকি মারধর হেনস্থা করা হয়েছে মহিলার বাপের বাড়ির লোকজনকেও।

গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মৃতের বাপের বাড়ি থেকে অভিযোগ, তপন সাঁতরা এবং তাঁর বাড়ির বাকিরা বিয়ের পর থেকেই গীতা দেবীর উপর অত্যাচার নির্যাতন চালাত। গত ১১ জুন মারধর অশান্তির খবর পেয়ে তাঁরা ওই বাড়ি যান। গীতা দেবীকে অসুস্থ অবস্থায় তাঁরা ভর্তি করেন হাসপাতালে। সেখানেই দিন সাতেক পর মারা যান গীতা সাঁতরা। অভিযোগ, জোর করে তাঁকে বিষ খাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

গীত দেবীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ির লোকেদের গ্রেফতারির দাবিতে শুরু হয় বিক্ষোভ। বাড়ির সামনে মৃতদেহ রেখে গ্রেফতার করার দাবি তোলেন বাপের বাড়ির লোকজন। দাবি করা হয়েছে মা হারা মেয়ে দুটির জন্য সরকারি সাহায্যও। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা সকলেই পলাতক।

মৃতের দেওর অর্থাৎ তপন সাঁতরার ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। রবিবার সকালে দাহ করা হয় গীতা দেবীর দেহ।

You might also like