Latest News

বাংলো কেনার জাল নথি দেখিয়ে বর্ধমানে ব্যাঙ্ককে প্রতারিত করার অভিযোগ বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে

গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেন উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের গাজিপাড়ার বাসিন্দা বাপ্পা সর্দার ও তাঁর বাবা রজ্জাক সর্দার। বর্ধমানের জেলা জজ অজেয়া মতিলাল অভিযুক্তদের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন। ধৃতদের আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের কোনও প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশে জানিয়েছেন জেলা জজ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বাংলো কেনার নামে জাল নথিপত্র তৈরি করে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণবাবদ ৬৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ওই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেন উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের গাজিপাড়ার বাসিন্দা বাপ্পা সর্দার ও তাঁর বাবা রজ্জাক সর্দার। বর্ধমানের জেলা জজ অজেয়া মতিলাল অভিযুক্তদের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন। ধৃতদের আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের কোনও প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশে জানিয়েছেন জেলা জজ। তবে, জামিনের আবেদনের শুনানিতে অভিযুক্তদের আইনজীবী জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা আদৌ ঋণের জন্য দরখাস্ত করেননি। তাঁদের ছবি সাঁটিয়ে অন্য কেউ আবেদন করেছে। যা ব্যাঙ্কের ভূমিকাকে প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে শান্তিনিকেতনে বাংলো কেনার জন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বর্ধমান শহরের বিসি রোড শাখায় ঋণের জন্য আবেদন করেন বাপ্পা সর্দার ও তাঁর বাবা। নথিপত্র পরীক্ষা করে ব্যাঙ্ক ৯০ লক্ষ টাকা গৃহ ঋণ মঞ্জুর করে। ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে ব্যাঙ্ক, ঋণ গ্রহীতা ও বিল্ডারের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয়। ঋণের ৭২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকা বিল্ডারের অ্যাকাউন্টে জমাও পড়ে।

পরে ব্যাংক খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে, বাংলোটি ঋণ গ্রহীতার নামে রেজিস্ট্রি হয়নি। ঋণের ২৩ লক্ষ ৮৯ হাজার ৩৪১ টাকা ব্যাঙ্কে জমা পড়ে। সুদ সহ বাকি ৬৯ লক্ষ ৩৬ হাজার ২১৯ টাকা ১৭ পয়সা ঋণ গ্রহীতা পরিশোধ করেননি।

ব্যাঙ্ক থেকে তাঁদের বারবার ঋণ পরিশোধের জন্য তাগাদা দেওয়া হয়। তাতে কাজ না হওয়ায় ব্যাঙ্কের চিফ ম্যানেজার বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে জাল নথিপত্র তৈরি করে প্রতারণা, সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলা রুজু হয়েছে।

 

You might also like