Latest News

সাতদিনের শিশু খুনে গ্রেফতার বাবা-মা, বৈঁচিগ্রামে চাঞ্চল্য

ষষ্ঠ সন্তান কন্যা হওয়ায় তাকে খুন করে পুকুরে ফেলে দেয় দম্পতি, এমনই মনে করছে পুলিশ। এমন অমানবিক ঘটনায় হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারাও।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: বৈঁচিগ্রামে শিশু কন্যা খুনে গ্রেফতার বাবা-মা। শুক্রবার শিশুর বাবা নারায়ণ টুডু ও মা পূর্ণিমা টুডুকে গ্রেফতার করে বৈঁচি ফাঁড়ির পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকালে বৈঁচিগ্রাম মানসমারি পুকুরে স্নান করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান পুকুরের জলে ইট বাঁধা কাপড় জড়ানো অবস্থায় কিছু একটা ভাসছে। তুলে এনে তাঁরা দেখেন সাতদিনের একটা শিশুর দেহ। তখন পুলিশে খবর দেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে আসে পান্ডুয়া থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে শুক্রবার পুলিশ ওই এলাকা থেকেই মৃত শিশু কন্যার বাবা-মাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, জেরার মুখে খুনের কথা স্বীকার করেছে দুজনেই।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ডিসেম্বর শিশু কন্যার জন্ম দেন পূর্ণিমা টুডু। বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দিনমজুর নারায়ণ টুডুর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। পূর্ণিমা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবরও কেউ জানতে পারেনি। এমনকি এলাকার আশা কর্মীদেরও সেই খবর জানতে দেননি পূর্ণিমা। নারায়ণের পরিবারের লোকও এই কথা জানতেন না বলে দাবি। ষষ্ঠ সন্তান কন্যা হওয়ায় তাকে খুন করে পুকুরে ফেলে দেয় দম্পতি, এমনই মনে করছে পুলিশ। এমন অমানবিক ঘটনায় হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারাও।

পান্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ সঞ্জিত ব্যানার্জী বলেন, ‘‘যে অমানবিক ঘটনা ঘটেছে তাতে আমরা হতবাক। পঞ্চম সন্তানের পর আবার কন্যা সন্তান হওয়ায় তাকে মেরে ফেলে দেয় মা বাবা। পুত্র আর কন্যার মধ্যে কি তফাৎ আছে? অভিযুক্তদের এমন শাস্তি দিতে হবে যাতে আর কেউ কন্যা সন্তানকে মেরে না ফেলে।’’

You might also like