Latest News

বাইরের লোকের সঙ্গে মেলামেশায় আপত্তি, তরুণীকে খুনের অভিযোগে মাহেশে আটক বাবা ও দাদা

এই ঘটনা অনার কিলিং কি না তাও খতিয়ে দেখছে চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ কর্তারা। এসিপি (২) বিজয়কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, ওই তরুণীর সঙ্গে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা মানতে পারেনি তাঁর পরিবার।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ঘর থেকে এক উদ্ধার করা হল জখম এক তরুণীকে। শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, বাইরের কারও সঙ্গে মেলামেশা পছন্দ ছিল করতেন না তরুণীর বাবা। বারণ না শোনাতেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। ওই তরুণীর বাবা ও দাদাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। মৃতা ওই তরুণীর নাম ফুলকুমারী (১৮)।

মঙ্গলবার রাতে নতুন মাহেশ এলাকায় তাঁদের বাড়ি থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। তাঁদের অভিযোগ, এদিন সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে এসে পাড়ার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিল ফুলকুমারী। তখনই তাঁকে গালিগালাজ করে ঘরে ডেকে নিয়ে যায় তাঁর বাবা জয়রাম রায়। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ওই বাড়ি থেকে প্রচণ্ড চিৎকার শুনে ছুটে যান পাড়ার লোক। তাঁরা দেখেন খাটের উপর অচৈতন্য হয়ে পড়ে রয়েছে ওই তরুণী। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ওই তরুণীকে শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই মৃত ঘোষণা করা হয় তাঁকে।

এই ঘটনা অনার কিলিং কি না তাও খতিয়ে দেখছে চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ কর্তারা। এসিপি (২) বিজয়কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, ওই তরুণীর সঙ্গে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা মানতে পারেনি তাঁর পরিবার। সম্ভবত সেই আক্রোশেই বাইরের কারও সঙ্গে মিশতে দেওয়া হত না তাঁকে। তিনি বলেন, ‘‘ওই তরুণীর গলায় দাগ পাওয়া গেছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ বোঝা যাবে। তবে ওই তরুণীকে মারধরের পর বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল তাঁর বাবা। পরে তরুণীর বাবা জয়রাম রায় ও দাদা সুবোধ রায়কে আটক করা হয়। ওদের প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে।’’

২৭ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর পিন্টু নাগ বলেন, ‘‘দিন দশেক আগে নতুন মাহেশ এলাকায় আসেন রিষড়া গ্লাস কারখানার কর্মি জয়রাম। পরিবারের বাকিরা কেউ প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিশেষ কথা না বললেও ফুলকুমারী খুব মিশুকে ছিলেন। মেয়ে বাইরের কারও সঙ্গে কথা বললেই অশান্তি করত জয়রাম।’’

এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা। ওই তরুণীকে খুন করা হয়েছে বলেই পড়শিদের দাবি। খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

You might also like