Latest News

গাড়ি চাকার সঙ্গে উঠে আসছে নতুন তৈরি রাস্তার পিচ, খবর প্রকাশের পরেই জামালপুরে ইঞ্জিনিয়াররা

জামালপুরের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামনশীপুর থেকে রায়নার দেরিয়াপুর পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার পাকা পিচের রাস্তা তৈরি হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের তত্ত্বাবধানে তৈরি হওয়া ওই রাস্তা নিয়ে প্রথম থেকেই বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। কাজের মান নিয়ে পুজোর সময়ে ক্ষোভ চরমে ওঠে। ক্ষুব্ধ মাঠনশীপুর গ্রামের বাসিন্দারা পুজোর সময়ে রাস্তায় কাজ বন্ধ করে দেন।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: রাস্তার কাজ চলতে চলতেই গাড়ির চাকার সঙ্গেই উঠে চলে যাচ্ছে পিচ ও পাথরের আস্তরণ। এমন নিম্নমানের রাস্তা তৈরির প্রতিবাদে পুজোর সময়েই সরব হয়েছিলেন জামালপুরের মাঠনশীপুরের বাসিন্দারা। সমবেতভাবে রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ করে দেন তাঁরা। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেন সরকারি ওয়ার্ক অর্ডার মেনে যথাযথ ভাবে ঠিকাদার সংস্থা রাস্তা তৈরি না করলে তারা রাস্তার কাজ আর করতে দেবেন না। এই খবর ‘দ্য ওয়ালে’ প্রকাশিত হতেই নড়ে চড়ে বসল প্রশাসন। শুরু হল রাস্তার কাজের মান পরীক্ষা।

জামালপুরের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামনশীপুর থেকে রায়নার দেরিয়াপুর পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার পাকা পিচের রাস্তা তৈরি হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের তত্ত্বাবধানে তৈরি হওয়া ওই রাস্তা নিয়ে প্রথম থেকেই বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। কাজের মান নিয়ে পুজোর সময়ে ক্ষোভ চরমে ওঠে। ক্ষুব্ধ মাঠনশীপুর গ্রামের বাসিন্দারা পুজোর সময়ে রাস্তায় কাজ বন্ধ করে দেন। ‘দ্য ওয়ালে’ সেই খবর প্রকাশিত হয়। বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় পৌঁছে যান জেলাপরিষদের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাত সদস্যের একটি দল। তাঁরা রাস্তার কাজ খতিয়ে দেখেন। রাস্তার বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান তাঁরা।

জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, ‘‘জেলাপরিষদের তত্ত্বাবধানে আরআইডিএফ প্রকল্পে রাস্তাটি তৈরি হচ্ছে। রাস্তার কাজ নিয়ে যে অভিযোগ ওঠেছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়। তার ভিত্তিতেই জেলা পরিষদ রাস্তার কাজের তদন্ত করার জন্যে একটি দল পাঠিয়েছিল বলে শুনেছি।’’

মাঠনশীপুর গ্রামের বাসিন্দা আজাদ মল্লিক, সেখ সামসুল হুদারা বলেন, তিন কিলোমিটার পাকা পিচ রাস্তা তৈরির জন্য ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে জেলাপরিষদ। সেই টাকায় যথেষ্ট ভালো রাস্তা তৈরি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অতীব নিম্নমানের রাস্তা তৈরি হচ্ছে। রাস্তার কাজ চলতে চলতেই গাড়ির চাকার সঙ্গে উঠে চলে যাচ্ছে পিচ ও পাথরের আস্তরণ। এমনকি হাতে আঁচড় দিলেও পিচ ও পাথরের আস্তরণ উঠে চলে আসছে।’’

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আগে মোরামের রাস্তা তৈরির সময় গ্রামের বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছিলেন। গ্রামে সবার দাবি ছিল ৩ কিলোমিটার পাকা পিচের রাস্তা হোক। সেই দাবি পূরণ হলেও নিম্নমানের রাস্তা তৈরি হওয়া দেখে এলাকার সকলেই হতাশ হয়েছেন। সেই কারণে পুজোর সময়েই গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখিয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। আজাদ মল্লিক বলেন, ‘‘জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। তাই আমাদের প্রত্যাশা রয়েছে এবার হয়তো রাস্তাটি ভালোভাবে তৈরি হবে।’’

You might also like