Latest News

ঝাড়গ্রামে গৃহস্থের বাড়িতে রাখা ধানের বস্তা সাবাড় করল হাতি, ভাঙল আইসিডিএস স্কুলের দরজা

শনিবার ভোররাতে এই ঘটনা ঘটে। রাতের অন্ধকারে হাতি ঢুকে পড়ায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয় গ্রামে। গ্রামবাসীরা জানান, শালবনির জঙ্গল থেকে একটি দলছুট হাতি গভীর রাতে নেদাবহড়া গ্রামে ঢুকে পড়ে। পরে সেই হানা দেয় ভালুকা বিটের পানপাড়া গ্রামে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: খাবারের সন্ধানে গ্রামে ঢুকে দু’টি বাড়ি ও আইসিডিএস স্কুলের দরজা ভাঙল দলছুট হাতি। জামবনি রেঞ্জের ভালুকা বিটের পানপাড়া গ্রামে একটি বাড়ির উঠোনে রাখা ধানও সাবাড় করে হাতিটি।

শনিবার ভোররাতে এই ঘটনা ঘটে। রাতের অন্ধকারে হাতি ঢুকে পড়ায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয় গ্রামে। গ্রামবাসীরা জানান, শালবনির জঙ্গল থেকে একটি দলছুট হাতি গভীর রাতে নেদাবহড়া গ্রামে ঢুকে পড়ে। ওই গ্রামের বাসিন্দা কালিপদ মাহাত ও চিত্তরঞ্জন মাহাতর বাড়িতে হানা দেয় হাতিটি। এই দুটি বাড়িতে খাবারের খোঁজ চালানোর পর একটি আইসিডিএস স্কুলের দরজা ভেঙে খাবারের খোঁজ চালায়।

এরপর ওই গ্রামে কিছুক্ষণ থাকার পর গ্রাম সংলগ্ন কাজুবাগান হয়ে মধুপুরের জঙ্গলে চলে যায় হাতিটি। ভোররাতে মধুপুরের জঙ্গল হয়ে জামবনির পানপাড়া গ্রামে ঢুকে পড়ে। এই গ্রামের বাসিন্দা উধীর পাতরের বাড়ির উঠানে রাখা প্রায় আড়াই কুইন্ট্যাল ধানের বস্তার মধ্যে কিছু ধান খেয়ে বাকি ছড়িয়েছিটিয়ে দেয় হাতিটি । পরে গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে ফুলবেড়িয়ার জঙ্গলে চলে যায়।

মধুপুরের জঙ্গল থেকে পানপাড়া গ্রামে ঢোকার পথে হাতিটি বালিডিহা গ্রামের আলুর জমিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে বলেও জানা যায়। নেদাবহড়া গ্রামের বাসিন্দা দেবু রানা বলেন, ‘‘ আইসিডিএস স্কুল সহ গ্রামের মোট চারটি দরজা ভেঙে ফেলে হাতিটি । কোথাও কিছু না পেয়ে কিছুক্ষণ পরে জঙ্গলে ফিরে যায়। বিষয়টি বন দফতরকে জানানো হয়েছে। হাতির হানায় গ্রামে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বন দফতরের। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে কোনও ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাচ্ছে না।’’

জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামগুলিতে খাবারের সন্ধানে প্রায়ই হাতি ঢুকে পড়ছে। নেদাবহড়া গ্রাম সংলগ্ন কাজুবাগানে এখন আরও তিনটি হাতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। ঝাড়গ্রামে ডিএফও বাসবরাজ হলেইচি বলেন, ‘‘যে সকল এলাকায় হাতি ক্ষয়ক্ষতি করেছে তা চিহ্নিত করে সরকারি নিয়ম মেনে‌ অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’’

You might also like