Latest News

জমিতে নাড়া পোড়া রুখতে মালচার মেশিন দিয়ে খড় নষ্ট করার পাঠ বর্ধমানে

ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে রীতিমত মাঠে নেমে দেখানো হচ্ছে নাড়া বা জমিতে পড়ে থাকা খড় পুড়িয়ে দিলে জমির কী ক্ষতি হয়। বরং না পুড়িয়ে সেই নাড়া বা খড় জমিতে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা কতটা বাড়ে ও ফসলের উৎপাদন কতটা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু তাতেও তেমন সাড়া মিলছে না।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: খরিফ মরসুমে ধান কাটা শুরু হতেই মাঠে নাড়া পোড়ানো বন্ধ করতে একেবারে জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়ল প্রশাসন। নাড়া বা খড় পোড়ানোর পরিবর্তে মালচার মেশিন দিয়ে কীভাবে নাড়া বা খড় নষ্ট করা যায় বা জমির মাটিতে মেশানো যায় তা চাষিদের হাতেকলমে দেখা‌লেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

গত কয়েক বছরে গোটা রাজ্যের মতই শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমানেও হারভেস্টারের ব্যবহার বেড়েছে। খরিফ ও বোরো মরসুমে হারভেস্টার দিয়েই চাষিরা ধান কাটছেন। এতে তুলনামূলক কম খরচে অল্প সময়ে চাষি মাঠ থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন। এতে একদিকে যেমন সময় বাঁচছে, তেমনি খরচও কম হচ্ছে। হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটলে জমিতে নাড়া থাকে বেশ লম্বা বা বড় হয়ে। পাশাপাশি কাটা খড়ও জমিতে পড়ে থাকে। ধান কাটার পর জমিতেই কৃষকরা নাড়া ও খড় পুড়িয়ে দেন। এরফলে বায়ু দূষণ বাড়ছে। জমির ক্ষতি হচ্ছে। জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও চাষিদের শোনানো যাচ্ছে  না বলে কৃষি দফতরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন।

ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে রীতিমত মাঠে নেমে দেখানো হচ্ছে নাড়া বা জমিতে পড়ে থাকা খড় পুড়িয়ে দিলে জমির কী ক্ষতি হয়। বরং না পুড়িয়ে সেই নাড়া বা খড় জমিতে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা কতটা বাড়ে ও ফসলের উৎপাদন কতটা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু তাতেও তেমন সাড়া মিলছে না।

তাই গলসি ১ নম্বর ব্লকের পক্ষ থেকে এলাকায় নাড়া বা খড় পোড়ানোর পরিবর্তে মালচার মেশিন দিয়ে কীভাবে নাড়া বা খড় নষ্ট করা যায় বা জমির মাটিতে মেশানো যায় তা বিষদে দেখানো হল। ব্লকের সহ কৃষি আধিকারিক অরিন্দম দানা বলেন, ‘‘নাড়া পোড়ানো হলে যেমন বাতাসে দূষণের মাত্রা বাড়ছে। তেমনি জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। এই মালচার মেশিন ব্যবহারে খরচ খুব একটা বেশি পড়বে না। বরং কম খরচেই কৃষকরা উপকৃত হবেন। তারই নমুনা দেখানো হল কৃষকদের।’’

পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ প্রশান্ত লাহা বলেন,‘‘চাষিরা ভুল করে মাঠে নাড়া ও খড় পুড়িয়ে দিচ্ছে। এতে জমির ক্ষতি হচ্ছে। লাগাতার খড় ও নাড়া পোড়ানোর জন্য পাঞ্জাব ও দিল্লিতে মারাত্মক হারে বায়ু দূষণ বাড়ছে। এখানে রাজ্য সরকার চাইছে নাড়া পোড়ানো বন্ধ করতে। তাই বিকল্প পথ দেখানো হচ্ছে চাষিদের।’’

স্থানীয় কৃষক বাপ্পাদিত্য রায় বলেন, ‘‘খড় বা নাড়া না পুড়িয়ে বিকল্প পথ নিলে আমরা উপকৃত হব বলে বারবার বলছে ব্লক প্রশাসন। জমির উর্বরতা বাড়াবে। ফসলের উৎপাদন বেশি হবে। এ বার এই পথেই চলার চেষ্টা করব।’’

You might also like