Latest News

দিঘার হোটেলের যে ঘরে ছিলেন করোনা আক্রান্ত প্রৌঢ়, সিল করা হল সেই ঘর

নয়াবাদের বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত প্রৌঢ়ের ১৫ জন আত্মীয়ের লালারস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হল নাইসেডে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: করোনা আক্রান্ত নয়াবাদের বাসিন্দার ১৫ জন আত্মীয়ের লালারস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হল নাইসেডে। এগরার যে বিয়েবাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েছিলেন ওই প্রৌঢ়, সেই বিয়েবাড়িতে আমন্ত্রিত ছিলেন মোট আটশো জন। তাঁদের সবাইকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ডেকে পাঠিয়েছিলেন এগরার মহকুমা শাসক অপ্রতীম ঘোষ। বৃহস্পতি ও শুক্রবার দু’দিনে এগরার ঝাঁটুলাল স্কুলের ক্যাম্পে আসেন মোট দেড়শো জন। তাঁদের প্রত্যেকের থার্মাল টেস্ট হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি এসেছেন এমন ১৫ জনের লালারস সংগ্রহ করা হয়।

এক আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে ১২ মার্চ এগরা গিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। ১৪ মার্চ বউভাত মিটে যাওয়ার পর দিঘায় গেছিলেন তিনি। ১৪ তারিখেই তাঁর জ্বর হয়েছিল বলে জানান ওই ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এক চিকিৎসক। প্যারাসিটামল খেয়ে জ্বর নামায় ১৬ তারিখ দিঘায় যান। সেখানে ফের জ্বর বেড়ে যাওয়ায় দু’দিন পর ফিরে আসেন এগরাতে। তারপরেই কলকাতায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। ভর্তি করা হয় পিয়ারলেস হাসপাতালে।

ওই ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পরেই বিয়েবাড়ির সমস্ত নিমন্ত্রিতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ডাকা হয়। এমনকী কাঁথিতে গিয়ে তিনি মেলামেশা করেছেন স্বাস্থ্যপরীক্ষা হয় এমন ১৬ জনের। তাঁদের মধ্যে ওই ব্যক্তির খুবই ঘনিষ্ঠ একজনের লালারসও নাইসেডে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

দিঘার যে হোটেলে তিনি ছিলেন সেই হোটেলের ম্যানেজার-সহ মোট ছ’জন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। সিল করে দেওয়া হয়েছে ওই ব্যক্তি যে ঘরে ছিলেন হোটেলের সেই ঘরটিও।

এগরা থেকে কলকাতায় ফেরার পর গত ২৩ তারিখ পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই ব্যক্তিকে। ২৫ তারিখ রাতে রিপোর্ট প্রকাশের পর দেখা যায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ওই ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার থেকেই তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। শুক্রবার পিয়ারলেস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়েছে অনেকটা। কিডনিও কাজ করছে না। ফলে মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওরের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

You might also like