Latest News

পাশের বেডের করোনা রোগীদের মন ভালো করতে হাসপাতালেও ম্যাজিক দেখালেন কোভিড আক্রান্ত পুলিশকর্মী

সুস্থ হয়ে শনিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন এই পুলিশকর্মী। বললেন, ‘‘আমার আশেপাশের শয্যায় যাঁরা ভর্তি ছিলেন, খুবই বিষণ্ণ দেখাতো তাঁদের। তাই নিয়মিত ম্যাজিক দেখাতাম আমি। কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভালও হয়ে যেত তাঁদের মন। যে কোনও রোগ থেকে সেরে ওঠার জন্য মনের জোরটাই আসল। তাই কোনওভাবেই যাতে তাঁরা মানসিক জোর হারিয়ে না ফেলেন তার জন্য যেটুকু আমার পক্ষে সম্ভব, সেটুকুই করেছি। ’’

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বানাজারাদের শিবির-সহ শহরের বিভিন্ন আবাসনে লাগাতার ম্যাজিক দেখিয়ে লকডাউনের একঘেয়েমি নিমেষে ভুলিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর ভরসাতেই কোতোয়ালি থানার পুলিশ ম্যাজিককে হাতিয়ার করে করোনার বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক প্রচার চালিয়েছে।

সম্প্রতি জলপাইগুড়ি পুলিশ আবাসনের বাসিন্দা কোতোয়ালি থানার ওই পুলিশকর্মী সইফুল আলমের করোনা ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই জলপাইগুড়ির করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সইফুলকে। সেখানে গিয়েও কিন্তু ‌চুপচাপ বিছানায় শুয়ে থাকেননি এই পুলিশ কর্মী। করোনা আক্রান্ত হলেও কোনও উপসর্গ ছিল না তাঁর। তাই প্রথমে একটু ঘাবড়ে গেলেও পরে তা সামলে নেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন তিনি লক্ষ করেন পাশে থাকা অধিকাংশ কোভিড পজিটিভ রোগীদেরই ভারাক্রান্ত মন। তাই আবারও ম্যাজিককে হাতিয়ার করেন এই পুলিশ কর্মী।

সুস্থ হয়ে শনিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন সইফু‌ল। বললেন, ‘‘আমার আশেপাশের শয্যায় যাঁরা ভর্তি ছিলেন, খুবই বিষণ্ণ দেখাতো তাঁদের। তাই নিয়মিত ম্যাজিক দেখাতাম আমি। কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভালও হয়ে যেত তাঁদের মন। যে কোনও রোগ থেকে সেরে ওঠার জন্য মনের জোরটাই আসল। তাই কোনওভাবেই যাতে তাঁরা মানসিক জোর হারিয়ে না ফেলেন তার জন্য যেটুকু আমার পক্ষে সম্ভব, সেটুকুই করেছি। ’’

পুলিশের চাকরি করলেও তাঁর নেশা ম্যাজিক দেখিয়ে মানুষকে খুশি করা। লকডাউনে গৃহবন্দি মানুষদের এর আগে ম্যাজিক দেখিয়ে খুশি করেছেন তিনি। এ বার করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েও সেই চেষ্টা করে গেলেন কোতোয়ালি থানার এই পুলিশকর্মী। এ দিন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফুল-মালা দিয়ে তাঁকে বরণ করে নিলেন কোতোয়ালি থানার পুলিশকর্মীরা।

You might also like