Latest News

চোপড়ায় গুলিতে মৃত্যু বিএসএফ জওয়ানের, চা বাগানের মধ্যে মিলল দেহ

পুলিশ ও বিএসএফের প্রাথমিক অনুমান নিজের স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের গুলিতে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই বিএসএফ জওয়ান।  ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিএসএফ। চোপড়া থানার পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের পাঠায়।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: এক বিএসএফ জওয়ানের দেহ উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল চোপড়া থানার দাসপাড়ায়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কেসিগছ গ্রামে একটি চা বাগানের ভেতরে শনিবার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় ওই বিএসএফ জওয়ানের। ৯৪ নম্বর ব্যাটালিয়নে কর্মরত ওই জওয়ানের নাম কেদারনাথ হাঁসদা(৪৫)।

পুলিশ ও বিএসএফের প্রাথমিক অনুমান নিজের স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের গুলিতে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই বিএসএফ জওয়ান।  ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিএসএফ। চোপড়া থানার পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের পাঠায়।

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুরের বাসিন্দা ছিলেন বিএসএফ জওয়ান কেদারনাথ হাঁসদা। ৯৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের কেসিগছ সীমান্তচৌকিতে কর্মরত কেদারনাথ শুক্রবার রাতে সীমান্ত প্রহরায় ছিলেন। শনিবার ভোর চারটে নাগাদ কেদারনাথের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাঁর লোকেশন পাওয়া যাচ্ছিল না। কিছুক্ষণ পরেই গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। এরপরেই ওই সীমান্ত চৌকির ইনচার্জ দুজন জওয়ানকে কেদারনাথের খোঁজে পাঠান। তাঁরা সীমান্ত লাগোয়া একটি চা বাগানের ভেতরে কেদারনাথের দেহ দেখতে পান।

কেদারনাথের গলার উপরে থুতনির নীচে তিনটে গুলির চিহ্ন মিলেছে। তাঁর দেহের পাশেই ওয়াকিটকি, টর্চ লাইট এবং তাঁর বুকের উপর স্বয়ংক্রিয় রাইফেলটি উদ্ধার করে বিএসএফ। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিএসএফ এর ঊর্ধ্বতন কর্তারা। খবর দেওয়া হয় চোপড়া থানার পুলিশকেও। পুলিশ ও বিএসএফ কর্তাদের প্রাথমিক অনুমান নিজের স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই জওয়ান। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে বিএসএফ ও চোপড়া থানার পুলিশ।

চলতি মাসের ৩ তারিখ গভীর রাতে রায়গঞ্জ থানার মালদাখন্ড এলাকায় সহকর্মীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই বিএসএফ কর্মী। এঁদের মধ্যে একজন আধিকারিক। ওইদিন রাতে মালদাখণ্ড সীমান্তে নজরদারি চালাচ্ছিলেন ইন্সপেক্টর মহিন্দার সিং ভাট্টি, কনস্টেবল অনুজকুমার এবং কনস্টেবল উত্তম সূত্রধর। রাত তিনটে নাগাদ হঠাৎই দু’রাউন্ড গুলি ছোড়ে উত্তম সূত্রধর। কাছাকাছি পাহারা দিচ্ছিলেন ইন্সপেক্টর মহেন্দ্র সিং ভাট্টি ও কনস্টেবল অনুজকুমার। গুলির শব্দ শুনে তাঁরা সেখানে পৌঁছতেই তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে উত্তম। সেখানে লুটিয়ে পড়েন তারা। খবর পেয়েই ওই ব্যাটেলিয়নের কম্যান্ডার ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাঁর দীর্ঘ আবেদনে সাড়া দিয়ে অবশেষে আত্মসমর্পণ করে ওই জওয়ান। নিহত ইন্সপেক্টর মহেন্দ্র সিং ভাট্টি অমৃতসরের বাসিন্দা। কনস্টেবল অনুজকুমার উত্তরপ্রদেশের শাহরানপুরের বাসিন্দা। একমাসের মধ্যে জেলায় ফের আরেক  জওয়ানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন বিএসএফ কর্তৃপক্ষ।

You might also like