Latest News

১৬২ কিলোমিটার পথ সাইকেলে যাতায়াত করে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স চালক

এতদিন জলপাইগুড়ি শহরে ভাড়া বাড়িতে থেকে কাজ করতেন। কিন্তু তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা দুজনেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত কয়েক মাস ধরে রোজ বাড়ি থেকে বাসে করে জলপাইগুড়ি শহরে যাতায়াত করতেন। বাধ সাধল লকডাউন।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি স্বাস্থ্য দফতরের অস্থায়ী অ্যাম্বুল্যান্স চালক তিনি। অন কল ডিউটির সময় ডাক্তারবাবুদের বাড়ি থেকে হাসপাতালে আনা ও বাড়িতে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর কাজ।

জলপাইগুড়ি থেকে ৮১ কিলোমিটার দূরে কোচবিহার জেলার ঘোকসাডাঙার আংরাকাটা পারোডুবি গ্রামে তাঁর বাড়ি। হাসপাতালের ডিউটি। তাই এতদিন জলপাইগুড়ি শহরে ভাড়া বাড়িতে থেকে কাজ করতেন রতন আইচ। কিন্তু তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা দুজনেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত কয়েক মাস ধরে রোজ বাড়ি থেকে বাসে করে জলপাইগুড়ি শহরে যাতায়াত করতেন। বাধ সাধল লকডাউন।

গণ পরিবহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অসুবিধায় পড়েছেন রতনবাবু। একদিকে অসুস্থ বাবা-মা, অন্যদিকে অস্থায়ী চাকরি, কীভাবে বজায় রাখবেন, এই কথা ভাবতে ভাবতে মনস্থির করেন সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করবেন । এখন ১৬২ কিলোমিটার পথ সাইকেলে যাতায়াত করে পরিষেবা দিচ্ছেন বছর ৪৬ এর ওই অ্যাম্বুল্যান্স চালক।

রতনবাবু বলেন, ‘‘৬ বছর ধরে অস্থায়ী অ্যাম্বুল্যান্স চালকের কাজ করছি। অ্যাম্বুল্যান্সে করে ডাক্তারবাবুদের আনা নেওয়া করি। আগে জলপাইগুড়ি থাকতাম। বাবা-মা অসুস্থ হওয়ায় এখন যাতায়াত করে ডিউটি করি। সাইকেলে যাতায়াতের সময় রাস্তায় মাঝেমধ্যে পুলিশ ধরে। আইকার্ড দেখালে তখন থার্মাল টেস্ট করে ছেড়ে দেয়।’’

ব্যাগে শুকনো খাবার নিয়ে সাইকেলে করে বেরিয়ে পড়েন বাড়ি থেকে। যাতায়াতে অতিক্রম করতে হয় ১৬২ কিলোমিটার পথ। লকডাউন পর্বটা পার করতে হবে এভাবেই।

You might also like