Latest News

ডুয়ার্স কন্যার সামনে চিন ভারত লড়াইয়ে শহিদ বিপুল রায়ের মূর্তি বসাতে জমি দিল প্রশাসন

আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ডুয়ার্স কন্যার সামনে শহিদ বিপুল রায়ের মূর্তি বসানোর জন্য আমি জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছিলাম। সেই চিঠি জেলাশাসক গ্রহণ করে প্যারেড গ্রাউন্ডে জমি দিয়েছেন। আমরা সেখানেই বিপুলের মূর্তি বসাব।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: লাদাখে শহিদ হওয়া বিন্দিপাড়ার যুবক বিপুল রায়ের মূর্তি বসবে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্স কন্যার সামনের প্যারেড গ্রাউন্ডে। আলিপুরদুয়ার শহরে বিপুলের মূর্তি বসানোর জন্য জেলাশাসকের কাছে জমি চেয়েছিলেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। জমি চেয়ে সেই চিঠি জেলাশাসক গ্রহণ করে মূর্তি বসানোর জন্য প্যারেড গ্রাউন্ডে জমি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সৌরভ।

শুধু ডুয়ার্স কন্যার সামনেই নয় বিন্দিপাড়ায় বিপুলদের বাড়ির পাশে বিন্দিপাড়া প্রাথমিক স্কুলের মাঠে বসানো হবে একটি শহিদ স্মারক। এর উদ্যোগও নিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ। তিনি বলেন, ‘‘ডুয়ার্স কন্যার সামনে শহিদ বিপুল রায়ের মূর্তি বসানোর জন্য আমি জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছিলাম। সেই চিঠি জেলাশাসক গ্রহণ করে প্যারেড গ্রাউন্ডে জমি দিয়েছেন। আমরা সেখানেই বিপুলের মূর্তি বসাব। বিন্দিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসবে বিপুলের শহিদ স্মারক। আমরা সব সময় তাঁর পরিবারের পাশে রয়েছি।’’

ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার লাদাখে ভারত-চিন যুদ্ধে শহিদ হওয়া এ রাজ্যের দুই যুবকের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ও পরিবারের একজনের সরকারি চাকুরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিপুল রায়ের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকার চেক দিয়েছে। দেওয়া হয়েছে চাকরির অফার লেটারও। পরিবারের কে এই চাকরি নেবে তা ঠিক করে জেলা প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে। বিষয়টি এখনও সিদ্ধান্ত নিয়ে শহিদ পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে কিছু জানানো হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

বিপুল রায়ের বাবা নরেন রায় বলেন, ‘‘সকলে আমার ছেলের জন্য গর্ব অনুভব করছে। কিন্তু ছেলের জন্য আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। আমি এমন বাবা যে আমাকে আমার ছেলের মুখাগ্নি করতে হল। রাজ্য সরকারের দেওয়া চাকুরি কে নেবে তা নিয়ে পরিবারে আলোচনা চলছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে খুব তাড়াতাড়ি জানিয়ে দেব।”

১৬ জুন লাদাখের গালওয়ানে ভারত-চিন দু’দেশের সেনা জওয়ানদের সংঘর্ষ বাধে। সেনাসূত্রে খবর সংঘর্ষে মৃত্যু হয় এক কর্নেল-সহ ২০ জন জওয়ানের। তাঁদের মধ্যে দুজন এ রাজ্যের বাসিন্দা। শহিদ বিপুল রায় ছিলেন  আলিপুরদুয়ারের বিন্দিপাড়ার বাসিন্দা । শহিদ রাজেশ ওরাং ছিলেন বীরভূমের মহম্মদবাজারের বাসিন্দা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সিগন্যাল রেজিমেন্টের জওয়ান ছিলেন বিপুল রায়। তাঁর অন্ত্যেষ্টির সময়েই আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক ওই শহিদের মূর্তি বসানো হবে বলে জানিয়েছিলেন।

You might also like